হাঁটতে পারেন না ছৈয়দুল, করেন মানবপাচার!

শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছৈয়দুল হক। দুই পা অবশ। পারেন না নিজের পায়ে হেঁটে চলাফেরা করতে। তবে অপরাধ জগতে একজন সবল মানুষকেও হার মানিয়েছে ছৈয়দুল। তার অপরাধের ফিরিস্তি শুনে আঁতকে উঠবে যেকেউ।
স্থানীয়রা বলছে, বছরের পর বছর ধরে কক্সবাজার উপকূলের অন্যতম বড় মানবপাচার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন ছৈয়দুল হক। শুধু তাই নয়, মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নামে হাতিয়ে নিতেন কোটি কোটি টাকা। টার্গেটে থাকত বাংলাদেশির পাশাপাশি রোহিঙ্গারাও। এ ছাড়া সাগরপথে মানুষ পাঠানো এবং আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র পরিচালনার অভিযোগও আছে ছৈয়দুলের বিরুদ্ধে।
কথিত মানবপাচার চক্রের অন্যতম নিয়ন্ত্রক ছৈয়দুল হককে আটক করেছে পুলিশ। কক্সবাজারের খুনিয়াপালং ইউনিয়নের কমুনিয়া এলাকা থেকে ঘণ্টাব্যাপী অভিযানের পর তাকে আটক করা হয়। এ সময় মানবপাচার-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র, চুক্তিপত্র এবং একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ছৈয়দুল হকের বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মানবপাচারের মামলা রয়েছে। নামের ভিন্নতার কারণে আরও কিছু মামলার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। মানবপাচারের পাশাপাশি অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে।
আটক ছৈয়দুল হক টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া বড় ডেইল এলাকার মৃত কবির আহমদের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কাদেরের ভাষ্য, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পর টেকনাফ উপকূলকেন্দ্রিক যে মানবপাচার নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে, সেখানে অন্যতম প্রভাবশালী নাম হয়ে ওঠেন ছৈয়দুল হক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধির দাবি, মালয়েশিয়াগামী অনেক ট্রলারের পেছনে তার সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আড়াল থেকে পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।
স্থানীয় সূত্র বলছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প, টেকনাফ উপকূল, পার্বত্য এলাকা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল তার যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। বিদেশে পাঠানোর নামে বিপুল অর্থ আদায়ের পাশাপাশি পাচারের শিকার অনেক মানুষ নানা দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়েছেন।
‘ছৈয়দুল হকের সম্পদ ও জীবনযাপন নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ছিল। স্থানীয়দের দাবি, দুই পা অবশ থাকা সত্ত্বেও কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে তার একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও সম্পত্তি রয়েছে। বিলাসবহুল গাড়িতে চলাফেরা এবং বাড়ির চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন’— খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক।
তার ভাষ্য, বাড়ির ভেতর ও বাইরে এবং আশপাশের সড়কে অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ছিল, একজন ব্যক্তির বাড়িতে এত বিস্তৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন কেন।
রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ছৈয়দুল হকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র পরিচালনার অভিযোগ আছে। মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়, সাগরপথে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় মানুষ পাঠানো এবং গুম-হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
ওসি আরও জানালেন, ‘আটক ব্যক্তিকে রামু থানায় নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’




