মুন্সিগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ
সড়কে যানজট, নৌপথে যাত্রীর চাপ—ঝুঁকিতে লঞ্চযাত্রা

ছবিঃ আগামীর সময়
মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে দীর্ঘ যানজট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের চরসৈয়দপুর ও গোগনগর এলাকায় সড়ক সংস্কারকাজের কারণে ভোগান্তি আরও বেড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার কারণে অনেক যাত্রী এখন নৌপথে ঝুঁকছেন। এতে মুন্সিগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ নৌরুটে লঞ্চে যাত্রী চাপ বেড়েছে। তবে ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী নেওয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জে ফিরছে ওয়াসেনাত নামের একটি লঞ্চ। লঞ্চটির নিচে ও ওপরে যাত্রীতে ঠাসাঠাসি অবস্থা। একই চিত্র দেখা যায় এমএল শাহারাসহ আরও কয়েকটি লঞ্চে।
লঞ্চ ওয়াসেনাতের টিকেটম্যান সোহেল রানা বলেছেন, ‘লঞ্চটির ধারণক্ষমতা ৬৮ জন। কিন্তু এ ট্রিপে প্রায় ৮০ জন যাত্রী এসেছে। অর্থাৎ ১২ জন বেশি যাত্রী নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারজন পুলিশ সদস্যও ছিলেন।’
তিনি বলেছেন, ‘আগে এ রুটে যাত্রী কম ছিল। প্রতিটি ট্রিপে প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হতো, অনেক সময় তেলের টাকাও উঠত না। এখন সড়কে যানজট বাড়ায় যাত্রী চাপও বেড়েছে।’
লঞ্চটির চালক আরিফ জানিয়েছেন, ঠিক কতজন যাত্রী ধারণক্ষমতার মধ্যে পড়ে তা তিনি জানেন না। তার কাজ লঞ্চ চালানো। তবে নৌপথে যত্রতত্র জাহাজ নোঙর করে রাখায় চলাচলে মাঝেমধ্যে সমস্যা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক লঞ্চচালক বলেছেন, ‘যাত্রী এলে তাদের নামিয়ে দেওয়া যায় না। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী লঞ্চ চলে। মানুষ নিজে থেকেই উঠে বসে। তাই শুধু লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে দোষ দিলে হবে না, যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে।’
লঞ্চযাত্রী আল মাহমুদ বলেছেন, ‘চরসৈয়দপুর ও গোগনগর এলাকায় নিয়মিত যানজট হয়। অনেক সময় এক থেকে দুই ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। তাই এখন নৌপথে যাতায়াত করছেন। ঈদের কেনাকাটার জন্যও অনেক মানুষ আসছেন, ফলে যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে।’
আরেক যাত্রী শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘লঞ্চে ঠাসাঠাসি করে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। আমাদের সবারই নিয়ম মেনে চলা উচিত।’
খোরশেদা বেগম নামে এক নারী যাত্রী বলেছেন, ‘ভয়ে ভয়ে লঞ্চে উঠেছেন। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন। ভাড়া দিয়েও বসার সিট পাননি।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, সকাল ৭টা থেকে প্রতি ৩০ মিনিট পরপর এই রুটে লঞ্চ চলাচল করছে। মুন্সিগঞ্জ থেকে সর্বশেষ রাত ৮টা ২০ মিনিটে এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে রাত ৯টা ১০ মিনিটে শেষ লঞ্চ ছেড়ে যায়। বর্তমানে দুপুরের পর থেকে লঞ্চগুলোতে যাত্রী চাপ বেশি থাকে।
মুন্সিগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালের ইজারাদার দ্বীন মো. কোম্পানি বলেছেন, ‘আগে এ রুটে ২৬টি লঞ্চ চলাচল করত। যাত্রী কম থাকায় ধীরে ধীরে অনেক লঞ্চ বিক্রি হয়ে গেছে। এখন মাত্র ৮টি লঞ্চ রয়েছে। তবে বর্তমানে যাত্রীরা আবার নৌপথে ঝুঁকছেন, তাই চাপ বেড়েছে। আমরা সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নারায়ণগঞ্জ বন্দরের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিবহন পরিদর্শক ছিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, ‘অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে যেন দুর্ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে নজরদারি করা হচ্ছে। ঈদের সময় যাত্রী চাপ বেশি থাকে। তাই লঞ্চ সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হবে এবং যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করা হবে।’

