শরণখোলা
মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে শ্বাসরুদ্ধকর বর্ণনা

রুবেল হাওলাদার
এক দস্যু বাহিনীর হাতে অপহরণের তিন দিনের মাথায় ১১ জেলেকে ছিনিয়ে নেয় অপর বনদস্যু বাহিনী। এরপর তাদের জীবনে নেমে আসে ভয়ঙ্কর পরিণতি। দস্যুদের আস্তানায় শেকলে বেঁধে রাখা হয় তাদের। ঠিকমতো খাবার জোটেনি একবেলাও। তৃষ্ণা মেটাতে দেওয়া হতো নদীর নোনা পানি। মুক্তিপণের জন্য অমানসিক নির্যাতন করে কান্নার শব্দ পরিবারকে শোনানো হতো মোবাইলে।
লোমহর্ষক সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিলেন সুন্দরবনের দস্যু বাহিনীর জিম্মিদশা থেকে শুক্রবার (৮ মে) ফিরে আসা জেলেরা। তাদের মুক্তিপণ হিসেবে দস্যু বাহিনীকে দিতে হয়েছে ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
গত ৩ মে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আলোরকোল এলাকায় মাছ ধরার সময় দুর্ধর্ষ বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী অপহরণ করে নিয়ে যায় ১১ জেলেকে। এই ঘটনার তিনদিন পর জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে অপর বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তৈরি হয় দ্বন্দ্ব। একপর্যায়ে বন্দুক যুদ্ধে লিপ্ত হয় উভয় গ্রুপ। শেষ পর্যন্ত জাহাঙ্গীর বাহিনীকে পরাস্ত করে তাদের কব্জা থেকে ১১ জেলেকে ছিনিয়ে নেয় করিম শরীফ বাহিনীর সশস্ত্র দস্যুরা।
শ্বাসরুদ্ধকর সেই ঘটনার এভাবেই বর্ণনা দিলেন মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফেরা শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জেলে রুবেল হাওলাদার (৩০)।
ফিরে আসা অন্য জেলেরা হলেন উত্তর রাজাপুর গ্রামের ছগির (৩২), রাকিব (২৩), লুৎফর হাওলাদার (৩০), বাদল হাওলাদার (৩৫), সজিব হাওলাদার (২৭), হাফিজুল (২২), আলমগীর ফরাজী (৫০), ইয়াসিন হাওলাদার (২৩) এবং পাথরঘাটার পদ্মাস্লুইস এলাকার রুবেল (২৫), ও খুলনার বটিয়াঘাটার দেব চন্দ্র (২৫)।
জেলেরা আরও জানালেন, প্রথমে তারা জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে অপহৃত হন। এরপর করিম শরীফ বাহিনী তাদের ছিনিয়ে নেয়। শরীফ বাহিনী মুক্তিপণ পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের নৌকায় করে পূর্ব সুন্দরবনের ধানসাগর স্টেশনের আড়ুয়াবেড় নদীর মোহনার বনে নামিয়ে দেয়। সেখান ৩-৪ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে বাড়িতে পৌঁছান তারা। জাহাঙ্গীর বাহিনীও তাদের ওপর চালিয়েছে নির্মম নির্যাতন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলেদের এক মহাজনের ভাষ্য, দস্যুরা প্রথমে জেলেদের জনপ্রতি ১ লাখ টাকা দাবি করেছিল। পরে দর কষাকষি করে জন প্রতি ৭০ হাজার টাকায় রাজি হয়। মুক্তিপণের টাকা বিকাশে পরিশোধের পর জেলেদের ছেড়ে দেয় দস্যু করিম শরীফ বাহিনী।
এ ব্যাপারে শরণখোলা থানার ওসি মো. শামিনুল হক বললেন, সুন্দরবনে মুক্তিপণ দিয়ে ১১ জেলে ফিরে আসার খবর তার জানা নেই। এখন পর্যন্ত কেউ কোনও অভিযোগ নিয়ে আসেনি থানায়। অভিযোগ পেলে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।




