দলীয়করণ এখন আওয়ামী আমলের চেয়ে বেশি : গোলাম পরওয়ার

খুলনা প্রেসক্লাবে কথা বলছেন জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: আগামীর সময়
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে প্রচার চালিয়ে ক্ষমতায় বসার পর ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে বিএনপি। সংসদে সমাধানযোগ্য বিষয়কে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে রাজপথে। এই মন্তব্য জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে ডাকা জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। প্রশাসনে বিএনপির ‘দলীকরণের’ অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে আগামী শনিবার খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে বিভাগীয় সমাবেশ ডেকেছে ১১-দলীয় বিরোধী জোট। এ উপলক্ষেই আজ খুলনা প্রেস ক্লাবের এই প্রেস ব্রিফিং।
গণভোট প্রসঙ্গে ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বললেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন শুধু জামায়াত-এনসিপি বা ১১ দলের নয়, এ দাবি দেশের ৭০ ভাগ মানুষের। কেননা তারা গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা এই সনদের পক্ষে সারা দেশে ক্যাম্পেইন করেছিলেন। কিন্তু তারা ক্ষমতায় বসার পর ১৮০ ডিগ্রি ইউটার্ন নিয়ে বলছেন যে, এই গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ নাকি বেআইনি ও সংবিধান পরিপন্থি।’
তার কথা, ‘আমরা রাজপথে নামতে চাই না। চাই সংসদেই সবকিছু সমাধান করতে। কিন্তু সরকার আমাদের বাধ্য করলে রাজপথই হবে চূড়ান্ত জায়গা। কারণ প্রেম তো একতরফা হয় না।’
প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিএনপির দলীয়করণের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা। ‘আওয়ামী লীগ আমলে দলীয়করণের নজির আমরা দেখেছি। কিন্তু এখন তো আরও বেশি দেখছি। স্থানীয় সরকার বিভাগের কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ এমনকি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেও প্রশাসক বসিয়ে দলীয়করণের নজির স্থাপন করা হয়েছে। এখন তো দেখছি বিএনপির স্লোগান পরিবর্তন করা উচিত। সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি স্লোগান হওয়া উচিত।’
ব্রিফিংয়ে সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনাও করলেন বিরোধী জোট নেতা। তার মতে, ‘খুলনার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের আয়রন মার্কেটে প্রতিটি দোকান থেকে ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়। গত এক সপ্তাহ ধরে ৭০টি দোকান বন্ধ। এ ছাড়া শিশু হত্যা, খণ্ডবিখণ্ড লাশ উদ্ধার, মসজিদের ভেতর ঢুকে গুলি এবং ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার মতো বর্বর ঘটনা নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো এখন আইনশৃঙ্খলার চেয়ে সংবিধান নিয়ে বেশি ব্যস্ত।’
সীমান্তে পুশইন প্রসঙ্গও আসে তার বক্তব্যে। ‘এটি নিয়ে সংসদে একজন এমপি নোটিস দিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে সেটি প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছে। এতেই প্রমাণ হয় কোথা থেকে কী হচ্ছে- কেউ আমাদের ওপর দাদাগিরি করে আধিপত্যবাদের সেবাদাস বানাক, সেটি আমরা চাই না’- বললেন খুলনা-৫ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য।
সব বিভাগের সমাবেশ শেষ হলে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সমাবেশ বাস্তবায়নের প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন ও খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।
ব্রিফিং শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার ও জামায়াত-এনসিপিসহ ১১-দলীয় জোটের নেতারা নগরীর স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, বাংলাদেশ ব্যাংকের মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের লিফলেট বিতরণ করেন।






