৬০ বছরেও সংস্কার হয়নি কাশেরা সড়ক

ছবি: আগামীর সময়
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কাশেরা গ্রামের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীর চলাচলের একমাত্র সড়কে শেষ নেই দুর্ভোগের। প্রায় ৬০ বছরেও সংস্কারের ছোঁয়া না লাগেনি কাঁচা মাটির এই সড়কটিতে। বর্ষা এলেই কাদা ও পানিতে চলাচলের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়ে এটি। ফলে প্রতিদিন ভোগান্তি নিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কাশেরা সৈয়দ আলী মেম্বারের বাড়ি থেকে কাশেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে ডুমদিয়া বাজার ও পাঁচুয়া বাজার পর্যন্ত সংযোগকারী সড়কটি অবহেলিত প্রায় ৬০ বছর ধরে। রাস্তা আইডি নম্বর ৩৩৩৩৬৫৩০৮ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো হয়নি দৃশ্যমান উন্নয়ন।
এই সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন যাতায়াত করে কাশেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডুমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও পাঁচুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী।
কাশেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, বর্ষায় রাস্তায় হাঁটাই কষ্টকর, বই-খাতা নিয়ে ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারে না তারা।
ডুমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, ‘বৃষ্টি হলেই সড়ক দিয়ে সাইকেল চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় কাদা পানিতে পড়ে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায় জামা-কাপড়।’
পাঁচুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, এই সড়কই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত কোথাও যাওয়া যায় না।
শিক্ষার্থীরা ছাড়াও ভোগান্তির কথা জানান স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, হাট-বাজারে যাতায়াত, চিকিৎসাসেবা গ্রহণসহ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কৃষিপণ্য পরিবহনেও। বিশেষ করে মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হয় রোগী ও গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে।
স্থানীয় বাসিন্দা সজল প্রধান অভিযোগ করে বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর একই দুর্ভোগে দিন কাটছে এলাকাবাসীর।’
শরিফ মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট সমবায়ী তাজ উদ্দিন দাবি করেছেন, ‘টোক ইউনিয়নের সবচেয়ে পুরোনো এই সড়কটি ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে অবহেলিত।’
তার মতে, চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাজারো মানুষের চলাচলের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও পাকা করা জরুরি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কাপাসিয়ার প্রকৌশলী সোহেল রানা জানিয়েছেন, কাশেরা গ্রামের সড়কটি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করা হবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে।





