ফেসবুক পোস্টের জেরে কুষ্টিয়া মেডিকেলে রোগীর স্বজনকে মারধরের অভিযোগ

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংগৃহীত ছবি
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর স্বজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট করার জেরে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল। পরে ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন মো. সোহাগ ও মো. সোহেল। ওই ফেসবুক পোস্টের ক্ষোভ থেকেই গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে প্রবেশ করার পর তাদের ওপর চড়াও হন মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা।
সোহাগ ও সোহেল শহরের হরিশংকরপুর এলাকার রহমত আলীর ছেলে।
সোহেলের শিশুসন্তান গত এক সপ্তাহ ধরে নিউমোনিয়া ও রক্তের সংক্রমণজনিত সমস্যা নিয়ে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সোহেলের স্ত্রী মারিয়া জানান, শনিবার সন্ধ্যায় তার স্বামী হাসপাতালে প্রবেশ করার পর জরুরি বিভাগের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘কেন ফেসবুক পোস্ট করা হলো’ এমন অভিযোগে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে তার স্বামীর ওপর হামলা চালান। হামলায় সোহেল অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় তার ভাই সোহাগ বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও ধাওয়া করা হয়। পরে সোহাগ পালিয়ে গিয়ে স্থানীয় এক ডাবের দোকান থেকে একটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন।
সোহেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার সময় ভুক্তভোগীদের একটি মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মোটরসাইকেলটি পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তাহীনতার কথা বিবেচনা করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটিকেও পরে অন্যত্র সরিয়ে নেয় পরিবার।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি জাকির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে সহযোগিতা করা হয়। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল ইসলাম বললেন, ‘ঘটনাটি পূর্বের বিভিন্ন উত্তেজনার একটি ধারাবাহিকতা বলে মনে হচ্ছে। মূলত বাইরে একটি চোর ধরা পড়ার পর মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে এ গণ্ডগোলের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে মেডিকেল ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’




