আগামীর সময়

আদালতে হাজিরার পর থেকেই নিখোঁজ হত্যা মামলার প্রধান আসামি

আদালতে হাজিরার পর থেকেই নিখোঁজ হত্যা মামলার প্রধান আসামি

সংগৃহীত ছবি

রাজশাহীর আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর থেকেই একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মাসুম বিল্লাহ (২৭) নামের ওই তরুণ গত ২১ দিন ধরে নিখোঁজ। তাঁর পরিবার চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। স্বজনদের দাবি, মামলার বাদীপক্ষ বা অন্য কেউ তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যেতে পারে।

মাসুম রাজশাহী নগরের ডিঙ্গাডোবা পাঠার মোড় এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবা মোবারক আলী সূর্য। তবে তাঁদের গ্রামের বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার তেরোপাড়া গ্রামে। নিখোঁজের ঘটনায় তাঁর মা রাবেয়া বেগম গত ১১ ফেব্রুয়ারি নগরের রাজপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, মাসুম বিল্লাহ পেশায় একজন ছাত্র। ২০২২ সালে তিনি একটি হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হন। ওই ঘটনায় আহত ভিকটিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে যান মাসুম। হাজিরা শেষে তিনি গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ী ভূমি অফিসে যাবেন বলে পরিবারকে জানান। কিন্তু সেদিনের পর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। রাতে তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

লিখিত অভিযোগে রাবেয়া বেগম দাবি করেন, মামলার বাদীপক্ষ বা অন্য কেউ ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত চত্বর এলাকা থেকে তাঁর ছেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যেতে পারে। তাঁর অভিযোগ, মামলার বাদীপক্ষ এর আগে মাসুমকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। তবে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলায় এসব বিষয়ে আগে কোনো অভিযোগ করা হয়নি।

মাসুমের বোন জিয়াসমিন খাতুন বলেন, 'মামলার বাদীপক্ষ আগেও বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছিল। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে স্থানীয়ভাবে আপসের চেষ্টা করছিলাম। আলোচনাও চলছিল। এর মধ্যেই হাজিরার দিন আমার ভাই নিখোঁজ হয়ে যায়। এখনো তার কোনো খোঁজ পাইনি। আমরা খুব উদ্বেগে আছি। আমাদের ধারণা, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। আমরা তার সন্ধান চাই।'

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালে গোদাগাড়ীর তেরোপাড়া গ্রামে ছাগলে জমির ফসল খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে মামুন-অর-রশিদ নামের এক যুবক আহত হন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে প্রধান আসামি করা হয় মাসুম বিল্লাহকে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নিহত মামুনের ভাই সুমন আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মালেক বললেন, 'অভিযোগটি আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। এখনো মাসুম বিল্লাহর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সেটি পাওয়া গেলে বিষয়টি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা মিলতে পারে। আমরা সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।'

    শেয়ার করুন: