নাফ নদী দিয়ে আনা হচ্ছিল ইয়াবা, দুই মিয়ানমার নাগরিক আটক

আটক দুই মিয়ানমার নাগরিক
মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচারের সময় টেকনাফে ৫ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবাসহ দুই মিয়ানমার নাগরিককে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব।
আজ রবিবার ভোরে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
র্যাবের দাবি, ধৃত দুজনই মিয়ানমারের মাদক চোরাকারবারি চক্রের সদস্য এবং সীমান্ত অতিক্রম করে ইয়াবার চালান বাংলাদেশে এনে স্থানীয় সিন্ডিকেটের কাছে সরবরাহ করতে এসেছিল।
র্যাব-১৫ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল প্রথমে জানতে পারে- কয়েকজন বিদেশি নাগরিক মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে নাফ নদীপথে ইয়াবার বড় একটি চালান নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়ায় ফজল করিমের মাছের ঘেরের দক্ষিণ পাশে ধানের ছড়া খালের কাঁচা সড়কে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুইজনকে আটক করা হয়। তাদের সঙ্গে থাকা দুটি বস্তা তল্লাশি করে ৫ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মিয়ানমারের পিন্ডিসং জেলার ফর্তু থানার সুলিয়াপাড়া গ্রামের করিম আলী (৩২) এবং রাখাইন রাজ্যের মংডু জেলার দলিয়াপাড়া গ্রামের হাসান আরাফ (৪৪)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের মিয়ানমারের নাগরিক বলে স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
এর আগের দিন শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বড়ইতলী এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। সে ঘটনায় টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করে আসামিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তার ভাষ্য, গত ১০ দিনে র্যাব-১৫ এর বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ৮ লাখ পিস ইয়াবা, ৭৬ দশমিক ২ কেজি গাঁজা, সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে অপহৃত দুইজনকে উদ্ধার, মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন এবং বিভিন্ন মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত মোট ৪২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আটক দুই মিয়ানমার নাগরিকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন এ র্যাব কর্মকর্তা।







