বাগেরহাট
খাল পুনরুদ্ধার অভিযান স্থগিত, মাছ তুলে নিতে দখলকারীদের সময় দুই সপ্তাহ

ছবি: আগামীর সময়
বাগেরহাট সদরের কাড়াপাড়ার কাঠি গোমতি গ্রামের দেলভাষানী খাল পুনরুদ্ধারে গিয়ে দখলকারীদের আবেদনে বাঁধ অপসারণ থেকে সারে আসে প্রশাসন।
এ ঘটনার পর চাষ করা মাছ তুলে নেওয়ার জন্য দখলকারীদের দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় শেষে খালটি উন্মুক্ত করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দেলভাষানী খাল পুনরুদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরেজমিন দেখা যায়, খালের অবৈধ বাঁধ অপসারণের প্রস্তুতির সময় সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন মাছ চাষকারী ও স্থানীয় ব্যক্তি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে বাঁধ না কাটার অনুরোধ জানান। পরে সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের কাছেও একই আবেদন জানানো হয়।
মাছ চাষকারীদের দাবি, খালে বিপুল পরিমাণ মাছ রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বাঁধ অপসারণ করা হলে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
তাদের ভাষ্য, খালে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ রয়েছে। তাই মাছ তুলে নেওয়ার জন্য কিছু সময় প্রয়োজন।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অবৈধ বাঁধ অপসারণ করে খালটি দখলমুক্ত করার দাবি জানান।
তাদের অভিযোগ, ২০১৭ সালে খালটির ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও এরপর আর কোনো ইজারা দেওয়া হয়নি। তারপরও প্রভাবশালী একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছে। এতে লবণাক্ত পানি আটকে থাকায় কৃষিকাজ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
যদিও প্রকাশ্যে বাঁধ না কাটার অনুরোধ জানিয়েছেন, তবে খাল দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজী।
তিনি বললেন, খাল আমি দখল করিনি। আওয়ামী লীগ সরকার চলে যাওয়ার পর গত এক বছর ধরে ছাত্রদল, যুবদল ও দলীয় লোকজন এই খাল ভোগদখল করছে।
বাগেরহাট- ২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ জানালেন, খাল খনন ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ সরকারের চলমান কর্মসূচির অংশ। সারা দেশের মতো বাগেরহাটেও এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ এখানে এসে জানলাম খালে মাছ চাষ করা হচ্ছে। তারা সময় চেয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বললেন, দেলভাষানী খালে যারা দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছিল, তারা সময় প্রার্থনা করেছে। কৌশলগত কারণে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের পর স্থানীয় বাসিন্দারা নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত অবৈধ বাঁধ অপসারণ করে খালটি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত এবং স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।




