সোনালী আঁশ সংগ্রহে ব্যস্ত হরিরামপুরের চাষিরা

জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে ধুয়ে রোদে শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ছবি: আগামীর সময়
অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও উন্নত জাতের বীজে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে এবার ভালো হয়েছে পাটের ফলন। এর সঙ্গে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় স্বস্তিতে আছেন কৃষকেরা।
চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬২ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। এতে সোনালি আঁশ পাটকে ঘিরে নতুন করে সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হরিরামপুরে ৫৬৩ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৬২৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, পুকুর, খাল ও নদীতে জাগ দেওয়া হয়েছে পাট। জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে ধুয়ে রোদে শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কেউ পানিতে নেমে আঁশ ছাড়াচ্ছেন, আবার কেউ বাড়ির উঠান কিংবা রাস্তার পাশে আঁশ ধুয়ে শুকাতে দিচ্ছেন। নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে বয়স্করাও ব্যস্ত রয়েছেন পাটের আঁশ ও পাটকাঠি সংগ্রহের কাজে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে বর্ষার পানিতে খাল-বিল, ডোবা-নালা ভরে উঠলে পাট জাগ দেওয়ার কাজ শুরু হয়। এবারও সেই সময়ে পাট জাগ দেওয়া শুরু হয়েছে। এখন চলছে আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ। পাশাপাশি পাটকাঠির চাহিদা থাকায় আঁশ ছাড়ানোর পর পাটকাঠিও সংগ্রহ করছেন কৃষকেরা।
উপজেলার গালা ইউনিয়নের বিজয়নগর গ্রামের কৃষক লতিফ জানিয়েছেন, এবার তিনি এক বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। সার, বীজ ও শ্রমিকের খরচসহ তার প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে।
গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ভাটিপাড়া গ্রামের কৃষক শেখ লাভলু জানিয়েছেন, তিনি দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘায় তার খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফলনও ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পাট পাওয়ার আশা করছেন। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাটের দাম ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। এ দাম অব্যাহত থাকলে প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লাভ হতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান খান জানিয়েছেন, হরিরামপুরে চলতি মৌসুমে পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনও ভালো হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।







