খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমুল হত্যা, গ্রেপ্তার আরও এক

নিহত আজমুল হোসেন
চাঞ্চল্যকর খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন হত্যা মামলার আরেক আসামি শেখ আসিফ হোসেনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের-৬’ (এসআরবি) সদস্যরা।
গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি উপজেলার ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসিফ হোসেন পাইকগাছা উপজেলার সনাতনকাটি গ্রামের শেখ মিরাজের ছেলে ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।
গত ২০ সেপ্টেম্বর অগ্রণী ব্যাংকের সাতক্ষীরার একটি শাখায় নতুন ক্যাশ অফিসার হিসাবে তার যোগদানের কথা ছিল। কিন্তু আজমুল হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি পলাতক থাকায় ব্যাংকের চাকরিতে যোগদান করতে পারেননি।
এদিকে, আজমুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেখ আসিফ হোসেনসহ এসআরবি ও খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে তিনজন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও একজন ব্যবসায়ী। গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
এসআরবির উপ-অধিনায়ক মেজর নাজমুল ইসলাম জানান, উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় শেখ আসিফ হোসেনের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আজমুল হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে নগরীর হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসআরবির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শেখ আসিফ হোসেন জানিয়েছে- মেসে প্রায়ই খাবার কম পড়ত। এ ছাড়া মোবাইল ফোন ও জামা-কাপড়ও চুরি হয়েছে। এ নিয়ে সবাই আজমুলকে সন্দেহ করত। ঘটনার দিন রাতে (গত ১৮ সেপ্টেম্বর) খাবার কম পড়ায় আজমুলকে মেসের চারতলায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে মেহেদীসহ তারা তাকে মারধর করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, যে চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে তারাসহ ১০ থেকে ১৫ জন গত শুক্রবার রাতে আজমুলকে লাঠি দিয়ে পেটানোসহ কিল-ঘুষি মেরেছিলেন। মারপিটে নেতৃত্ব দেন মেস ম্যানেজার মেহেদী। মারপিটের এক পর্যায়ে তাকে দিয়ে জোর করে চুরি করে ভাত খাওয়া এবং মোবাইল ও টাকা চুরি করার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিতে বলেন। এ সময় তার স্বীকারোক্তি উপস্থিত কয়েকজন ভিডিও ধারণ করেন। পরে মারপিটের এক পর্যায়ে সহ্য করতে না পেরে আজমুল চারতলার ছাদ থেকে পাশের তিনতলা বিল্ডিংয়ের ছাদে লাফ দেন। কিন্তু পা পিছলে তিনি নিচে পড়ে যান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন ও পরে মারা যান।
জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে তিনিসহ ম্যাচ ম্যানেজার মেহেদী ও কৃষি ব্যাংকের বাগেরহাট সদর উপজেলার টাউন নওয়াপাড়া শাখায় ক্যাশ অফিসার হাসনাত হাবিব রিফাত, প্রতাপ সরকার ও তারেক ওরফে রুবেলের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে গ্রেপ্তার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা খানজাহান আলী হলের পেছনের সড়কের ‘মা বাবার দোয়া, তানহা জুস কর্নারের মালিক তারেক ওরফে রুবেল মারধোর বেশি করেছেন বলে আসিফ জানিয়েছেন।
এদিকে হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, আজমুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গ্রেপ্তার হাসনাত হাবিব রিফাত, তারেক ওরফে রুবেল ও প্রতাপ সরকার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর আসামি শেখ আসিফ হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এসআরবি হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করেছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে ওসি জানান।




