নির্মাণের পরদিনই দেবে গেল কাবিটার রাস্তা

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার কেওয়ারদিঘী গ্রামে কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত একটি সলিং রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার এক দিনের মাথায় অর্ধেক অংশ দেবে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও দায়সারা কাজ করায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটি শনিবার সকালেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক দিনের মাথায় সড়ক দেবে যাওয়ায় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবিও তাদের।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের আওতায় ৫ নম্বর সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নের কেওয়ারদিঘী গ্রামের পাকা রাস্তা থেকে রহুল মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত ২৮০ ফুট রাস্তা সলিংয়ের কাজ করা হয়। প্রকল্পটির সভাপতি ছিলেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাজন মিয়া। গত শুক্রবার এই রাস্তার কাজ শেষ হয়।
তবে শনিবার সকালে একটি ছোট গাড়ি চলার পরই রাস্তার অর্ধেক অংশ দেবে যায়। ইটগুলো আলাদা হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুরো সড়কে আস্ত ইটের পরিবর্তে অধিকাংশ স্থানে ভাঙা ইটের টুকরো ব্যবহার করা হয়েছে। এক ইটের সঙ্গে আরেক ইটের অনেক ফাঁকা রেখে বসানো হয়। পরে তড়িঘড়ি করে বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
নির্মাণকাজ চলাকালে স্থানীয়রা অনিয়মের প্রতিবাদ জানালেও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা তা মোটেও আমলে নেননি। স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি গাড়ি যাওয়ার পরই সব ইট আলাদা হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে রাস্তা দেবে গেছে। দুই লাখ টাকার রাস্তা এক দিনেই শেষ হয়ে গেল, আর ১০ থেকে ১৫ দিন গেলে এই রাস্তার কোনো অস্তিত্বই থাকবে না।
সরেজমিন পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
এমন অনিয়মের ভিডিও ও ছবি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদি হাসান মৃধার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হলে তিনি প্রকল্পের নাম ও বরাদ্দের পরিমাণ ভুলে যাওয়ার দাবি করেন। তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।
এই কর্মকর্তা আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘রাস্তাটির কাজ চলমান। এখনো শেষ হয়নি। প্রকল্পের বিল এখনো দেওয়া হয়নি। প্রত্যেকটি কাজ শেষ হওয়ার পর স্পটে যাই। কোনো অনিয়ম থাকলে বিল কর্তন করি। ঈদের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি দেখা হবে।’
অন্যদিকে প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য সাজন মিয়া দাবি করেন, ‘কাজ ঠিকমতো হয়েছে। বৃষ্টির কারণে হয়তো কিছু অংশ দেবে গেছে। কোনো সমস্যা থাকলে তা মেরামত করা হবে।’
ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম ছোটনের ভাষ্য, ‘পুরো রাস্তা ভাঙা ইট দিয়ে করা হয়নি। প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু স্থানে ভাঙা ইট ব্যবহার করা হয়েছে। কাজে অনিয়ম হয়নি। তবে সমস্যা থাকলে তা দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলেন মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন।






