হরিরামপুরে পূজামণ্ডপে চালের বদলে টাকা, সিন্ডিকেটের কবলে বরাদ্দ

সরেজমিন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে গিয়ে অনিয়মের চিত্র দেখা যায়। ছবি: আগামীর সময়
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে বরাদ্দকৃত জিআর চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলনের জন্য ডিও না দিয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে চালের মূল্য বাবদ ১৯ হাজার ২০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্য থেকে আবার অফিস খরচ বাবদ রেখে দেওয়া হচ্ছে ১০০ টাকা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে মোট ৩২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপের সভাপতিকে চাল বরাদ্দের কাগজ হস্তান্তর করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, উপজেলা খাদ্য নিন্ত্রয়কের দপ্তর থেকে ডিও নিয়ে গুদাম থেকে চাল উত্তোলন করতে হবে।
সরেজমিন আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রাবেয়া সুলতানার উপস্থিতিতে উপপরিদর্শক মেহেদী হাসান তার ডেস্কে বসে ডিও লেটারে পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতিদের সই রাখছেন। তার পাশে বসে ঝিটকা এলাকার চাল ব্যবসায়ী বাবুল, প্রতিটি মণ্ডপের সভাপতিকে চালের মূল্য বাবদ খামে ভরে ১৯ হাজার ২০০ টাকা করে দিচ্ছেন। সেখান থেকে আবার অফিসের খরচ বাবদ ১০০ টাকা করে রাখছেন উপপরিদর্শক মেহেদী।
এ সময় পূজামণ্ডপের কয়েকজন সভাপতি জানিয়েছেন, অফিস থেকে সই রেখে চালের দাম বাবদ ১৯ হাজার ২০০ টাকা করে দিয়েছে। এর মধ্য থেকে আবার অফিস খরচ বাবদ ১০০ টাকা করে দিতে হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রাবেয়া সুলতানা বললেন, ‘ডিও হোল্ডাররা আমার কাছে থেকে ডিও নিচ্ছে। এরপর তারা কি করছে, তা তো আমি বলতে পারব না। ডিও দেওয়ার দায়িত্ব আমার অফিস থেকে, আমি ডিও দিয়ে দিচ্ছি।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেছেন, ‘আমার দপ্তর থেকে নিয়ম অনুযায়ী সব পূজামণ্ডপের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বরাদ্দের কপি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দত্ত ওরফে বিল্টু দত্ত বললেন, ‘প্রতি মণ্ডপের জন্য বরাদ্দকৃত চালের পরিমাণ ৬০০ কেজি। অফিস থেকে চালের দাম বাবদ ১৯ হাজার ২০০ করে টাকা দিচ্ছে। আমাদের টাকার দরকার। চালের দরকার নেই।’
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার নাজমুস সাকিব বলেন, ‘যদি সত্যিই এই ব্যত্যয় ঘটে থাকে, তাহলে আমার ডিপার্টমেন্টের অবস্থান এখানে খুবই শক্ত এবং অনমনীয়। যদি এরকম কোনো অনিয়ম ঘটে থাকে, তাহলে আমরা কঠোর অ্যাকশনে যাব।’
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




