বাঁশের সাঁকোই ভরসা, দুর্ভোগে ৫-৬ গ্রামের মানুষ

ছবি: আগামীর সময়
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী-রাঙ্গিয়ারপোতা সড়কের আচামি এলাকার একটি সেতু প্রায় এক বছর ধরে ভাঙা পড়ে আছে। সরকারি পুনর্নির্মাণের অপেক্ষায় দিন গুনতে গুনতে শেষ পর্যন্ত নিজেদের উদ্যোগেই বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন স্থানীয়রা। সেই নড়বড়ে সাঁকোই এখন কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশু, শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও সাধারণ মানুষ এই সাঁকো পার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বছরের টানা ভারী বর্ষণে পাশের সিংনগর বাওড়ের বাঁধ ভেঙে গেলে প্রবল পানির স্রোতে আচামি এলাকার সেতুটি ধসে পড়ে। এর পর থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আশপাশের অন্তত ৫ থেকে ৬টি গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেতুটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো সরকারি উদ্যোগ না থাকায় এলাকাবাসী নিজেরাই বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করেন।
বর্তমানে সেই সাঁকো দিয়েই কোনো রকমে পথচারী, সাইকেল, মোটরসাইকেল ও ভ্যান চলাচল করছে। তবে বড় বা ভারী যানবাহন সম্পূর্ণভাবে চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন, রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সিংনগর গ্রামের বাসিন্দা শিবলু রহমান বলেছেন, ‘প্রায় এক বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া, রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
রতিরামপুর গ্রামের পশুচিকিৎসক শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘সেতু ভেঙে যাওয়ার পর অনেক রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তা এসে দেখে গেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে এলাকার যুবকরা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে এই অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেছে।’
রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেছেন, ‘এই সেতুই ছিল এলাকার মানুষের জীবনরেখা। মাঠের ফসল ঘরে আনা থেকে শুরু করে স্কুল, বাজার কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত- সবকিছুর জন্য এই পথই ব্যবহার করা হতো। সেতু ভেঙে যাওয়ার পর মানুষের দুর্ভোগ যেন শেষই হচ্ছে না।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি ধসে পড়ার পর অনেককে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। আর চলতি বর্ষায় যদি বাঁশের সাঁকোটিও পানির স্রোতে ভেঙে যায়, তাহলে অন্তত ৫ থেকে ৬টি গ্রামের মানুষ কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
তাই দ্রুত সেতুটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আল-আমিন বললেন, ‘সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।’




