আগামীর সময়ে সংবাদ প্রকাশ
গজ রেখে সেলাই, দেড় মাস পর মৃত্যু, সেই কনিকার পরিবারের পাশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে মৃত কনিকা রানীর বাড়িতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
‘সিজারের পর দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই, দেড় মাস পর মৃত্যু’ শিরোনামে আগামীর সময়ের অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে মৃত কনিকা রানীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণ হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন কনিকার পরিবারকে।
আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে কনিকার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, চিকিৎসা অবহেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তদন্তে চিকিৎসা অবহেলার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণ হলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আরও জানান, অবহেলার কারণে একজন মায়ের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতেই তিনি সেখানে গেছেন। সরকার এই পরিবারের পাশে থাকবে।
তিনি আরও বলেছেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্যসেবা খাত যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখান থেকে উত্তরণে সরকার কাজ করছে। জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো আধুনিকায়নেরও উদ্যোগ রয়েছে।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘সিজারের পর দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই, দেড় মাস পর মৃত্যু’ শিরোনামে আগামীর সময়ের অনলাইন সংস্করণে কনিকার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি নজরে আসার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন আগামীর সময়কে। এর পরদিনই তিনি কনিকার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বললেন।
গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসক ডা. লক্ষ্মী রানী দত্তের মাধ্যমে সিজারিয়ান অপারেশনে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন বালিয়াকান্দির বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী কনিকা মন্ডল (৩৫)। অপারেশনের পরদিন তার পেট ফুলে যায়। অবস্থার অবনতি হলে গত ৩ জুলাই তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গত ৭ জুলাই পরীক্ষায় তার পেটে গজ পাওয়া যায়। ওই দিনই অস্ত্রোপচার করে গজ বের করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৯ আগস্ট রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ওই হাসপাতালে মারা যান তিন সন্তানের জননী কনিকা।
এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে চিকিৎসা অবহেলার জন্য কারা দায়ী, তা নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিফ উল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফারুক হোসেন, বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রব তালুকদারসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।







