রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বললেন রুমিন ফারহানা

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ‘অর্থহীন’ ও ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তার ভাষ্য, ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত থাকলে সেটি নির্বাচন নয়, কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা।
বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামে নিজ বাসভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন রুমিন ফারহানা। এ সময় তিনি ভোটদানে বিরত থাকার তিনটি কারণ তুলে ধরেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলব? সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।’
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বড় ধরনের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি পদে একজন অরাজনৈতিক ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনীত করার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগানো হয়নি।
রুমিন ফারহানার ভাষায়, ‘এত বড় একটি গণ-অভ্যুত্থান গেল, যার সঙ্গে জাতি হিসেবে আমাদের আত্মত্যাগ ও অনেক স্বপ্ন জড়িত। তাহলে আমরা সবাই মিলে কেন একজন অরাজনৈতিক এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করতে পারলাম না?’
তৃতীয় কারণটিকে নিজের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কথা বলা হয়েছে। তার দাবি, দলের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা দেখানো হয়েছে।’
তার ভাষ্য, ‘২০১৬ সাল থেকে বিএনপি ভিশন-২০৩০ নিয়ে গলার রগ ফুলিয়ে কথা বলছে। এখন তারা বলছে, দলের বাইরে ভোট দিলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে। এ রকম প্রহসনের ভোট আমি কেন দেব?’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি আরও বলেন, ‘কোনো নির্বাচনের ফলাফল যদি ভোট গ্রহণের আগেই নির্ধারিত থাকে, তাহলে সেটিকে প্রকৃত অর্থে নির্বাচন বলা যায় না।’
রুমিন ফারহানার ভাষায়, ‘ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত থাকলে সেটি নির্বাচন নয়; সেটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা।’







