কিশোরগঞ্জে কোরবানির পশুর দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা

ছবি: আগামীর সময়
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে খামারে খামারে চলছে গরু মোটাতাজাকরণের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণে জোর দিয়েছেন অধিকাংশ খামারি। জেলায় চাহিদার তুলনায় গরুর সংখ্যা বেড়েছে। তবে একদিকে গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে গরু চুরি ও নিরাপত্তার অভাব চিন্তায় ফেলেছে খামারিদের।
এখানকার খামারিরা গরু মোটাতাজাকরণে কেউ ব্যবহার করছেন ঘাস, ভুসি, খৈল ও খড়ভিত্তিক খাদ্য। আবার কেউ নিজের জমিতে উৎপাদিত গো-খাদ্য দিয়েই গরু লালন-পালন করছেন।
স্থানীয় খামারি মঞ্জিল মিয়া আক্ষেপ করলেন, ‘অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও আগাম বন্যায় বন (খড়) নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গরু পালন খুবই কষ্টকর হচ্ছে। কুড়া ২০ টাকা, ভূষি ৬৫ টাকা, লবন ২০ টাকা কেজি সব কিছুর দাম বেড়েছে। গরুর দাম বাড়েনি। এভাবে লোকসানে পড়লে শেষ হয়ে যাব।’
খামারি মো. ফজলুর বলেছেন, ‘কম বয়স থেকেই আমি গরু লালন-পালন করি। প্রতিবছর কোরবানির ঈদে ৭/৮ টি গরু বিক্রি করে থাকি। গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে। চোরের উপদ্রবও বেড়েছে। প্রতি রাত গরু পাহারা দেওয়ার জন্য জেগে থাকি। সরকারের কাছে দাবি, বাইরে থেকে কোনো গরু যেন না আসে। তাহলে আমরাও ন্যায্য মূল্য পাব আর ক্রেতারাও ন্যায্য দামে কিনতে পারবে পাবে।’
খামারি মঞ্জিল মিয়ার ভাষ্য, ‘আমার খামারে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের গরু আছে। যেটুকু মূল্য পাওয়ার কথা সেটুকু মনে হচ্ছে পাবো না। ৬ মাস ধরে লালন পালন করছি। প্রতিটি গরুর পেছনে অনেক খরচ হচ্ছে।’
খামারিরা দাবি করেছেন, দেশের বাজার সুরক্ষায় বিদেশ থেকে গরু আমদানি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। দেশীয় খামারিরা এখন কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে সক্ষম। তাই স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের সহায়তা জরুরি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল মান্নান জানান, এ বছর কিশোরগঞ্জ জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে মোট ১ লাখ ৯১ হাজার ৪০৬টি পশু। এর মধ্যে জেলার চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ১৮৫টি পশুর। জেলায় উদ্বৃত্ত রয়েছে ৩৯ হাজার ২২১টি পশু। জেলায় বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ২৪ হাজার ১৫৮ জন খামারি রয়েছেন। কোরবানির পশু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে জেলায় বসবে ১১০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট। এসব হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করতে কাজ করবে ৩৬টি মেডিকেল টিম।
স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে অন্যান্য এলাকাতেও পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন এই প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।





