কোরবানির হাটে গারো পাহাড়ের গরু!

কোরবানি ঈদ সামনে রেখে শেরপুর সীমান্তের গাড়ো পাহাড়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে এবারো পালন হচ্ছে দেশি গরু। সবুজ ঘাস, লতাপাতা, নির্মল বাতাস আর খোলা চারণভূমিতে বড় হচ্ছে গরুগুলো। ঈদে এসব গরুর চাহিদা কয়েক গুণ। তবে ঈদের আগে ভারত থেকে চোরাই পথে গরু প্রবেশের খবরে দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা। এদিকে নিরাপদ মাংসের জন্য ক্রেতাদের দেশি গরুর ওপর আস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি গরু প্রবেশ বন্ধে কাজ করছেন বলে জানালেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রেজাউল করিম ভূঁইয়া।
শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্ত জুড়ে গারো পাহাড়। সীমান্তের পাহাড়ি ঢালে প্রকৃতির নিখাদ ছোঁয়ায় বেড়ে উঠছে কোরবানির হাজারো দেশি গরু। সবুজ ঘাস, নির্মল বাতাস আর খোলা চারণভূমিতে লালিত এসব গরু এখন কোরবানির ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ। প্রাকৃতিক উপায়ে পালনের কারণেই এই গরুর মাংস যেমন নিরাপদ, তেমনি স্বাদেও রয়েছে ভিন্নতা।
জেলার তিন উপজেলার সীমান্ত জুড়ে গারো পাহাড়ি গ্রামগুলোয় এবার প্রায় ১৫ হাজার গরু প্রস্তুত করা হয়েছে । আর এসব গরু পালনের সঙ্গে জড়িত প্রায় দুই হাজার পরিবার। গরু বিক্রির টাকাতেই সংসারের খরচ চলে এসব পরিবারের। প্রতিদিন খামারিরা ভোরে গরু পাহাড়ে ছেড়ে দেয়। সারাদিন রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে কচিঘাস ও লতাপাতা খায়। বিকালে তারা গরুগুলো একত্রে করে বাড়ি ফিরে।
গারো পাহাড়ের প্রতিটি খামারি ১০ থেকে ৫০টি গরু লালনপালন করে থাকে। যে গরুগুলোকে বাজার থেকে কেনা কোনো খাদ্য খাওয়ানো হয় না।
তবে, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, পাহাড়ি গরুর আগ্রহ ও চাহিদা বাড়ছে। এই আগ্রহে বাধা হচ্ছে সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা গরু। ফলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে স্থানীয়ভাবে পালন করা গরুর দাম পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে খামারিরা।
খারামিরা গ্রামের খামারি সফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা হাতির যন্ত্রণায় ঠিকমতো আবাদ করতে পারি না। আমার খামারে ২০টা গরু আছে। সকালে পাহাড়ে ছাইড়া দেই, সারাদিন লতাপাতা-ঘাস খাইয়া পেট ভরে। সন্ধ্যায় বাড়ি নিয়ে লবলপানি খাওয়াই। এ ছাড়া বাজারের কোনো ক্ষতিকর খাবার খাওয়াই না। তাই আমগো গরুর গোস্তের স্বাদ অনেক বেশি। আমগোর গরুর চাহিদা অনেক।’
প্রমোদ মানকিন বলেছেন, ‘আমরা গরু পাইলা ঈদের সময় বেইচা যে টাহা পাই, এটাহা দিয়াই সংসার চালাই। সীমানা নিয়ে গরু পাচার কইরা আনে। এডা বন্ধ করন লাগবো।’
এদিকে, নিরাপদ মাংসের জন্য ক্রেতাদের দেশি গরুর ওপর আস্থা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগ। সেই সঙ্গে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ ঠেকিয়ে দাম নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রেজওয়ানুল হক ভূঁইয়া।





