হেলমেট পরে সরকারি সেবা, যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা

সংগৃহীত ছবি
মাথার ওপর ঝুলছে বিপদ। কোথাও ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, আবার কোথাও দেখা দিয়েছে ফাটল। ভবনে ঢুকলেই আতঙ্ক— কখন জানি মাথার ওপর ভেঙে পড়ে আস্ত ছাদটাই। তাই বাধ্য হয়ে মাথায় হেলমেট পরে অফিস করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আর সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে পাচ্ছেন ভয়।
এ চিত্র বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনেই চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। প্রতিদিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা নিতে আসেন শতাধিক মানুষ। অথচ ভবনের প্রায় প্রতিটি কক্ষের ছাদ ও দেয়ালের অবস্থা নাজুক। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
সর্বশেষ গত রবিবার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত আয়া সবিতা রানীর মাথায় ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে আহত হন তিনি। এ ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কাজ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আরও বেড়েছে আতঙ্ক।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বিভিন্ন কক্ষের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে, আবার কোথাও ঝুলছে পলেস্তারা। দুর্ঘটনা এড়াতে পরিষদের কয়েকজন কর্মরত ব্যক্তি মাথায় হেলমেট পরে দায়িত্ব পালন করছেন। ভবনের হলরুম, তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতেও প্রতিদিন মানুষের যাতায়াত রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থাকলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে এখানে আসেন। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন তারা।
রাবি সাংবাদিকদের ওপর হামলায় শনাক্ত ছাত্রদলের ৭ নেতাকর্মী জড়িত নানা অপকর্মে ০৫ অক্টোবর ২০২৬
সেবা নিতে আসা প্রসেনজিৎ বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন কাজে আসতে হয়। কিন্তু ভবনের ছাদ ও দেয়ালের যে অবস্থা, তাতে ভেতরে ঢুকতেই ভয় লাগে। মাথার ওপর কখন পলেস্তারা খসে পড়ে, সেই আতঙ্ক থাকে। দ্রুত ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ করা দরকার।’
আরেক সেবাগ্রহীতা আতিয়ার রহমান বলেন, ‘সরকারি সেবা নিতে এসে যদি দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়, তাহলে বিষয়টি খুবই দুশ্চিন্তার। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হেলমেট পরে কাজ করতে হচ্ছে, এটাই ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার প্রমাণ। কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল হামিদ বলেন, ‘অনেক দিন ধরে ভবনটির এমন অবস্থা। ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেয়ালেও ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন এখানে অনেক মানুষ আসে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনটি সংস্কার কিংবা নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন। ইউনিয়ন পরিষদে গ্রামের মানুষ বিভিন্ন কাজে আসে। ভবনের অবস্থা দেখে অনেকে ভেতরে ঢুকতেও ভয় পান। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাশেদুর রহমান বলেন, ‘ভবনের কোনো কক্ষই নিরাপদ নয়। হলরুম, তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রতিদিন মানুষ সেবা নিতে আসেন। পলেস্তারা খসে পড়ে কয়েকজন আহতও হয়েছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ সরদার বলেন, ‘ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জানান, জায়গা স্বল্পতার কারণে বর্তমান স্থানে নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পুরোনো ভবন সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কারের কাজ শুরু করা যাবে।




