এক ট্রলারে ৪৬ মণ ইলিশ, বিক্রি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়

ছবি: আগামীর সময়
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছধরা ট্রলারে একসঙ্গে ধরা পড়েছে ৪৬ মণ ইলিশ।
গতকাল শুক্রবার মহিপুর মৎস্য বন্দরে নিলামে মাছগুলো ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর বড় চালানের ইলিশ পেয়ে উচ্ছ্বসিত জেলেরা।
জানা গেছে, ৬ আগস্ট পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে মাছ ধরতে যায় এফবি জুনাইদ। ট্রলারের মাঝি আলমগীরের নেতৃত্বে জেলেরা জাল ফেললে এক টানেই প্রায় ২ হাজার ২০০ পিস ইলিশ উঠে আসে। সব মিলিয়ে মাছের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৬ মণ।
শুক্রবার দুপুরে ইলিশবোঝাই ট্রলারটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে পৌঁছায়। পরে মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামে মাছগুলো বিক্রি করা হয়।
আড়ত সূত্র জানিয়েছে, এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ২৪ মণ ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এতে দাম পাওয়া যায় ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। দুই ধাপে ৪৬ মণ ইলিশের মোট দাম হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এফবি জুনাইদের মাঝি আলমগীর জানিয়েছেন, প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছেন তারা। একবার জাল ফেলতেই প্রায় ২ হাজার ২০০ পিস ইলিশ ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন লোকসানের পর এমন মাছ পাওয়ায় তারা আনন্দিত।
মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন জানিয়েছেন, অনেক দিন পর মহিপুর বন্দরে এত বড় চালানের ইলিশ এসেছে। বাজারে ইলিশের চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় জেলেরা ভালো দাম পেয়েছেন। এত বড় আকারের ইলিশ একসঙ্গে পাওয়া সাধারণত দেখা যায় না।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ মাছ ধরার বোটে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়া স্বস্তির খবর। এতে জেলেদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
তবে একদিনের বেশি আহরণকে ইলিশের সামগ্রিক প্রাচুর্যের সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বখতিয়ার রহমান। তার মতে, বিষয়টি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ইলিশের ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি।
কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানিয়েছেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের খরা ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সামনে আরও বেশি ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জেলে, আড়তদারসহ ইলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবেন।





