ভূমি সার্ভারে মৌজা উধাও, তিন বছর ধরে বন্ধ ভূমিসেবা

শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়
গত তিন বছর ধরে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভারে নেই সাতক্ষীরার শ্যামনগর পৌরসভার শিবপুর মৌজা। ফলে এ মৌজার জমির নামজারি (খারিজ), খাজনা প্রদানসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন জমির মালিকরা।
সমস্যাটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ায় স্থানীয়ভাবে এর সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। মন্ত্রণালয় উদ্যোগ না নিলে কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।
শিবপুর মৌজার ভূমির মালিক ও দলিল লেখকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সাল থেকে শ্যামনগর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভারে পৌরসভার শিবপুর মৌজা দেখা যাচ্ছে না। ফলে এ মৌজার জমি নামজারি, খাজনা প্রদানসহ ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
শ্যামনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক রাজীব রায় চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সাল থেকে ভূমি সার্ভারে শ্যামনগর পৌরসভার শিবপুর মৌজা দেখা যাচ্ছে না। তবে উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের ভূমি সার্ভারে মৌজাটি দেখা যায়। সার্ভারে মৌজাটি না থাকায় এ এলাকার জমির খাজনা দেওয়া যাচ্ছে না। একই কারণে তহশিলদাররাও নামজারির প্রতিবেদন দিতে পারছেন না। ফলে গত তিন বছর ধরে এ মৌজার জমির নামজারি শুনানি বন্ধ রয়েছে।
অন্যান্য দলিল লেখক, মুহুরি ও সার্ভেয়াররাও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন।
শিবপুর মৌজার জমির মালিক আজিবর রহমান গাজী জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় তিনি তিন মাস আগে শিবপুর মৌজায় নিজের কিছু জমি বিক্রির চেষ্টা করেন। কিন্তু ভূমি সার্ভারে মৌজাটি দেখা না যাওয়ায় জমির নামজারি করতে পারছেন না। এ কারণে তিনি নিয়মিত শ্যামনগর উপজেলা ভূমি অফিসে খোঁজ রাখছেন, কবে সার্ভারে মৌজাটি দেখা যাবে।
শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর শরীফ ফাহাদ এ ভোগান্তির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করে। স্থানীয়ভাবে কোনো কিছু করার নেই।’
নতুন দায়িত্ব নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। গত রবিবার বিষয়টি জানার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় তথ্যও নিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সমস্যাটির সমাধান হবে।



