শিক্ষিকার সঙ্গে বিএনপি নেতার হাতাহাতি, নেপথ্যে কী

সংগৃহীত ছবি
রাজশাহীর দুর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বিএনপি নেতাকর্মী ও শিক্ষকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে কলেজের অধ্যক্ষ, নারী শিক্ষক এবং বিএনপি নেতাসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে অধ্যক্ষের কক্ষে ও কলেজ চত্বরে ঘটেছে এ ঘটনা। রীতিমতো ভাইরাল শিক্ষিকা ও বিএনপি নেতার মারামারির একটি ভিডিও। পরে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট ওই বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে দল থেকে।
অভিযোগ রয়েছে, বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল উপলক্ষে কলেজ মাঠ ব্যবহারের জন্য গাড়ি পার্কিং ও অন্যান্য খরচের নামে অর্থ দাবি করা হয়। এ নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
অধ্যক্ষের কক্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় আকস্মিকভাবেই বাকবিতণ্ডায় জড়ান সেই নারী প্রদর্শক ও বিএনপি কর্মী শাহাদ আলী। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে প্রথম সেই নারীই চড়াও হন শাহাদ আলীর ওপর। ফোন ক্যামেরা চালু করে বিএনপি নেতাদের কর্মকাণ্ড রেকর্ড করার পাশাপাশি চড় মারতে উদ্যত হন তিনি। ঘটনার প্রক্ষাপটে শাহাদ আলী তার পায়ের স্যান্ডেল খুলে আঘাত করতে থাকেন সেই নারী প্রদর্শককে। অধ্যক্ষসহ অন্য শিক্ষকেরা তাদের নিবৃত্তের চেষ্টা করলে তারাও হামলার শিকার হয়ে আহত হন। সেখানে পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষিকা প্রথমে প্রতিবাদ করতে গিয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং ফোনে ভিডিও ধারণের পাশাপাশি শাহাদ আলীর দিকে তেড়ে যান। পরে শাহাদ আলী তার স্যান্ডেল খুলে তাকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষকও আহত হন।
ঘটনার রেশ পরে কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীর সঙ্গেও ওই শিক্ষিকার উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
অভিযুক্ত শাহাদ আলী দাবি করেন, তার ওপর প্রথমে আঘাত করা হয়েছিল। অন্যদিকে আলেয়া খাতুন হীরা অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষকে মারধর করা হচ্ছিল বলে প্রতিবাদ করলে তাকে প্রকাশ্যে জুতা দিয়ে আঘাত করা হয়।
আহত শিক্ষকদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী এ হামলায় অংশ নেন। তবে আকবর আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, পূর্বের কিছু আর্থিক অনিয়মের হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত।
কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। কোনো পক্ষকে প্রশ্রয় না দেওয়ায় এ ঘটনার শিকার হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেছেন, ‘এখনও কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


