বরিশালে বিএনপির সদর উপজেলা কমিটি বাতিলের দাবি

বরিশালে বিএনপির সদর উপজেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন— সংগৃহীত
সদ্য ঘোষিত বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির কমিটিতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সংশ্লিষ্টদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একাংশের নেতারা। তাদের অভিযোগ কমিটিতে ত্যাগী এবং প্রকৃত নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। গুপ্ত হয়ে বিএনপিতে প্রবেশ করা ‘বিতর্কিত জামায়াতে ইসলামীর নেতা’ নুরুল আমিন দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এমন কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তাই সদর উপজেলা বিএনপির বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্ত করে ত্যাগী এবং রাজপথের নেতাকর্মীদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজ শনিবার দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমন দাবি তুলে ধরেন বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম সাবু।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও চরমোনাই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম রাড়ী, সাবেক সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম সেলিম, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ মন্টু খান, কাজী ফিরোজ আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. রেজাউল করিম রেজা রাড়ী প্রমূখ।
লিখিত বক্তব্যে জিয়াউল ইসলাম সাবু বলেছেন, ২০২২ সালে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপিতে নুরুল আমিনকে আহ্বায়ক করে যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তা নিয়ে দলীয়ভাবে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় তদন্ত ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জেলা বিএনপির সেই কমিটি বিলুপ্ত করা হয় এবং নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সদর উপজেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
সাবু অভিযোগ করেন, ওই তিন সদস্যের কমিটি জেলা বিএনপির সঙ্গে পরামর্শ না করেই গত ১২ জুলাই ১৬১ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করিয়ে আনে। নতুন কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, নতুন কমিটির সদস্য তালিকায় কয়েক মাস আগে মারা যাওয়া একজন ব্যক্তির নামও রয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া এবং দলটির নেতাদের সমর্থনকারী কয়েকজনকেও গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।
জিয়াউল ইসলাম সাবু বলেছেন, বর্তমান আহ্বায়ক নুরুল আমিন জামায়াতে রাজনীতি করতেন। তিনি গুপ্ত হয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলের ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন। তিনি বিএনপিতে যোগ দিলেও দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত এবং সেগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি গোপনে জামায়াতের আদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি বিষয়টি তদন্ত করে বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্ত করার আহ্বান জানান। অন্যথায় দলীয় নেতাকর্মীরা বিতর্কিত এই কমিটির বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
এ ব্যাপারে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিন বলেছেন, অভিযোগগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে তালিকা পাঠানোর পরে তদন্ত পূর্বক কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় নেতারা। একটি স্বার্থন্বেষী মহল দলের সুনাম নষ্ট করার জন্য এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে।





