বাবাকে হত্যার বিচার চেয়ে রাস্তায় সন্তানদের কান্না

ছবি: আগামীর সময়
‘আমার বাবাকে যারা মেরে ফেলেছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমি আর কোনোদিন আমার বাবাকে দেখতে পারব না।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিল ৯ বছর বয়সী হামিদা। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ভাই ইসমাইলও বাবার হত্যাকারীর বিচার দাবি করে অঝোরে কাঁদছিল। দুই শিশুর হৃদয়বিদারক আহাজারিতে মানববন্ধনে উপস্থিত অনেকের চোখেও জল নেমে আসে।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ট্রাকচালক আবু হানিফ ফকির হত্যা মামলার আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টায় কুয়াকাটা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
পটুয়াখালী আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় শ্রমিক, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই ট্রাকচালক আবু হানিফ ফকির মালামাল আনতে ট্রাক নিয়ে চট্টগ্রামে যান। ট্রাকের সংস্কার কাজের জন্য তার সঙ্গে নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই টাকার বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন ট্রাকের হেলপার বিপ্লব চন্দ্র মণ্ডল।
পরদিন ৯ জুলাই রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিএসআরএম কারখানার সামনে একটি ট্রাক পার্কিং এলাকায় ট্রাকের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আবু হানিফকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন বিপ্লব চন্দ্র মণ্ডল। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তার সঙ্গে থাকা প্রায় দুই লাখ টাকা, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত।
পাশে থাকা আরেকটি ট্রাকের চালক গুরুতর আহত আবু হানিফকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৫ জুলাই তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. বেল্লাল বাদী হয়ে চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
নিহত আবু হানিফ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ পুরো পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
মানববন্ধনে নিহতের ছেলে ইসমাইল বলেছেন, ‘আমার বাবার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। শুধু টাকার লোভে কোনো কারণ ছাড়াই আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।’
বক্তারা বলেছেন, এটি একটি নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে।
আলিপুর-কুয়াকাটা শ্রমিক কল্যাণ কর্মসেবা সংস্থার সভাপতি খলিল মুসুল্লি বলেছেন, ‘খুনি বিপ্লব মণ্ডলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে এমন শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়। পাশাপাশি নিহতের স্ত্রী-সন্তানদের জন্য সরকারের বিশেষ সহায়তা কামনা করছি।’
মহিপুর থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেছেন, ‘খুনিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।’
মানববন্ধন শেষে বক্তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, পলাতক আসামির দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেছেন, ‘নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় একজনই অভিযুক্ত। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’




