‘সেন্টমার্টিনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে যা করা দরকার, সবই করব’

সেন্টমার্টিনে ২০ হাজার চারা গাছ রোপণ ও সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম— সংগৃহীত
‘সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একটি মহাপরিকল্পনা রয়েছে। এ দ্বীপের প্রতিবেশ-পরিবেশ সুরক্ষা এবং দ্বীপের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে যা কিছু করা প্রয়োজন, সবকিছুই আমরা করব।’
আজ শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ২০ হাজার চারা গাছ রোপণ ও সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সহযোগিতায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ও এনরুট ফাউন্ডেশন এ কর্মসূচির আয়োজন করে। ৮ থেকে ১০ আগস্ট তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে সেন্টমার্টিনজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির ২০ হাজার গাছের চারা রোপণের পাশাপাশি সমুদ্রসৈকত থেকে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য অপসারণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘আমাদের সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার। জনগণের স্বার্থ, দেশের স্বার্থ, আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং দ্বীপের অস্তিত্ব— সবকিছু সমন্বয় করে আমরা একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। এর মধ্যে সবচেয়ে যেটা গুরুত্বপূর্ণ বা করা উচিত, সেটাই আমরা বাস্তবায়ন করব।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘সেন্টমার্টিন আমাদের ভালোবাসার জায়গা, অস্তিত্বের জায়গা এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্য। আমাদের একটাই সেন্টমার্টিন। আমরা চাই, এই দ্বীপটিকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলতে।’
শেখ ফরিদুল ইসলামের ভাষ্য, আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সেন্টমার্টিনে আপাতত ২০ হাজার গাছ লাগানো হচ্ছে। উপকূলের যেখানে যে গাছ উপযোগী, সেখানে সেই গাছই লাগানো হবে। যাতে প্রাকৃতিক পরিবেশে সহজে বেড়ে উঠতে পারে।
তিনি বলেছেন, ‘সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ফলদ, ঔষধি ও বনজসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে। এসব গাছের পরিচর্যা ও সুরক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও অনন্য জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণও জরুরি। শুধু গাছ লাগালেই হবে না। রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জানান, এখানে যারা বসবাস করছেন তারা দ্বীপেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের ব্যাপারটি আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ দ্বীপটা তারাই লালন এবং ধারণ করছেন। তাই দ্বীপের সঙ্গে তাদের একটা মমত্ব গড়ে উঠেছে। অনেক প্রতিকূলতার ভেতরে তারা দ্বীপে অবস্থান করছেন।
মহেশখালীতে প্যারাবন কাটার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন করছি না। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা এসব অন্যায় কাজে প্রশ্রয় দিচ্ছি না। আমাদের কাছে তথ্য আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
তিনি আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণের বিরূপ প্রভাব থেকে সেন্টমার্টিনকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার, স্থানীয় জনগণ, বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দ্বীপটিকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই রাখতে চলমান উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
কর্মসূচির আওতায় আম, পেয়ারা, বহেরা, হরতকি, নিম, কুল, কৃষ্ণচূড়া, জারুল, সাগরলতা, কেয়া ও নারিকেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সমুদ্রসৈকত থেকে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে এনরুট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. তারিকুল হক, হেড অব প্রোগ্রাম জুবায়ের ইবনে হাসনাত অভি, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কক্সবাজার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার রোনাল্ড প্রবীর চিসিক, ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, উপজেলা কোঅর্ডিনেটর ছোটন বড়ুয়াসহ সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।





