সরাইলে ৩ দিন ধরে সংঘর্ষ, প্রশাসকের মধ্যস্থতায় সমঝোতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে টানা তিন দিন ধরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ছবি: আগামীর সময়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে টানা তিন দিন ধরে চলা দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় সমঝোতা হয়েছে। জেলা পরিষদ প্রশাসকের মধ্যস্থতায় এলাকায় শান্তির আভাস দেখা দিয়েছে।
জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজের মধ্যস্থতায় সমঝোতা হয়েছে। পরে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে যান প্রশাসক সিরাজুল। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাষ্টার। আলোচনার পর উভয় পক্ষ থেকে ৫ জন করে মোট ১০ জন প্রতিনিধি ভবিষ্যতে সংঘর্ষ এড়িয়ে শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে সম্মতি জানান।
পরে নিহত হাদিমের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান সিরাজুল। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের বিষয়ে আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি গ্রামবাসীর সহযোগিতা পেলে বিরোধের স্থায়ী সমাধানে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন সিরাজুল।
স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে জেলা পরিষদ প্রশাসকের এই উদ্যোগ।
গত রবিবার সন্ধ্যায় পাওনা টাকা নিয়ে সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ হোসেন ও ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিম মিয়ার (৫৫) মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে হাদিম মিয়া নিহত হন। গত সোমবার বিকালে নিহত হাদিমের দাফনের পর আবারও দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় কালীকচ্ছ বাজারের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গতকাল মঙ্গলবার সকালেও তৃতীয় দিনের মতো দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় অন্তত ৫০ জন আহত হন।
সংঘর্ষের কারণে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল কাদের ভূঁইয়াসহ কয়েক শতাধিক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। কালীকচ্ছ বাজারের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।





