বন্যহাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু

সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় বন্যহাতির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ফসল বাঁচাতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন কৃষকরা। প্রতিদিনের মতো নিজের ধানক্ষেত পাহারা দিতে যান কৃষক ছাবের আহমদ (৬৯)। এ সময় হঠাৎ ধানক্ষেতে ঢুকে পড়ে একটি বন্যহাতি এবং আক্রমণ করে তার ওপর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ছাবেরের।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ বুধবার ভোরে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার পূর্ব গজালিয়া সাতঘরিয়াপাড়ায়।
একটু দূরে আরেকটি ধানক্ষেতে পাহারায় ছিলেন কৃষক জামাল উদ্দিন। তিনি আতংক প্রকাশ করেন, হাতিটি শুঁড় দিয়ে আঘাত করে ছাবেরকে। এতে দুই পা, হাত, মুখসহ গুরুতর জখম হয় ছাবেরের শরীরের বিভিন্ন অংশ।
সাতঘরিয়াপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘ফজরের আজানের একটু আগে হাতির বিকট গর্জনে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় আমাদের। বাইরে এসে দেখি মসজিদের পাশেই পড়ে রয়েছে ছাবেরের নিথর দেহ। দৃশ্যটি খুবই মর্মান্তিক ছিল।’
নিহতের বাবা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জুবায়েদ উল্লাহ্ জুয়েল জানান, তার বড় ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ। ফলে পরিবারের উপার্জনের একমাত্র ভরসা ছিলেন ছাবের।
জুবায়েদ পরামর্শ দেন, হাতির চলাচলের পথ চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সতর্কতামূলক প্রচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজারের পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে বন্যহাতির চলাচল। খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে হাতি।
ফুলছড়ি রেঞ্জের রাজঘাট বিট কর্মকর্তা শাহ আলম অবগত করেন, ‘বন্যহাতির আক্রমণে নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় সরকারিভাবে। এ জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আবেদন করতে হবে ছাবেরের পরিবারকে। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব আমরা।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, ‘বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া এবং মানুষের বসতি ও কৃষিকাজ সম্প্রসারণের কারণে ক্রমেই বাড়ছে হাতির আক্রমণ।
এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

