গজারিয়ার চার ইউটার্ন যেন মরণফাঁদ

ছবি: আগামীর সময়
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে চারটি ইউটার্নকে ঘিরে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। স্থানীয়দের দাবি, অপর্যাপ্ত নজরদারি, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে এসব ইউটার্ন এখন পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, মহাসড়কের মেঘনা সেতুর পূর্বপ্রান্ত থেকে গজারিয়ার ১৩ কিলোমিটার অংশে বালুয়াকান্দী, আনারপুরা, ভবেরচর ঈদগাহ এবং বাউশিয়ার মানা বে ওয়াটার পার্কসংলগ্ন এলাকায় চারটি ইউটার্ন রয়েছে। এসব স্থানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউটার্নগুলো দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার এবং পথচারীরা নিয়মিত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাইওয়ে পুলিশের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় মহাসড়কে নিষিদ্ধ ও ধীরগতির যানবাহনও এসব ইউটার্ন ব্যবহার করছে।
সম্প্রতি আনারপুরা এলাকায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ইউটার্ন নেওয়ার সময় দূরপাল্লার বাসের ধাক্কায় দুজন যাত্রী নিহত এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ইউটার্নগুলোতে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন, ওভারপাস বা আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মহাসড়ক ব্যবহারকারী চালক ও যাত্রীদের দাবি, অনেক যানবাহন নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করে। এতে সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তারা মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার, ট্রাক্টর, নছিমন ও মাহেন্দ্রসহ ধীরগতির যানবাহনের চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর হতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক উপসহকারী প্রকৌশলী জানিয়েছেন সড়ক বিভাগের দায়িত্ব সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশের। তার ভাষ্য, ইউটার্ন নির্মাণের সময় নিরাপদ চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়েছে এবং সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড ও স্টিকারও স্থাপন করা হয়েছে। তবে সড়ক ব্যবহারকারীদেরও সচেতন হতে হবে।
ভবেরচর হাইওয়ে থানার ওসি মো. শাহ কামাল আকন্দ জানিয়েছেন, মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ দিনরাত কাজ করছে। বিশেষ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য নিষিদ্ধ যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আইন অমান্যকারী চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ছয় মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশে প্রায় ৩০টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।




