ছোট অঙ্কে বড় লুট

সংগৃহীত ছবি
অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে আসা মানুষগুলোর অনেকেই নিম্ন আয়ের। চিকিৎসার আশায় তারা সরকারি হাসপাতালে ভিড় করেন কম খরচে সেবা পাওয়ার প্রত্যাশায়। কিন্তু কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে তাদের দিতে হচ্ছে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ২ টাকা বেশি। অঙ্কটি ছোট হলেও প্রতিদিন শত শত রোগীর কাছ থেকে আদায় করা এই অর্থ বছরে কয়েক লাখ টাকায় পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে ধরা পড়েছে চিকিৎসক ও কর্মচারীর অনুপস্থিতি, এক্স-রে সেবার অচলাবস্থা এবং রোগীদের দীর্ঘ ভোগান্তির চিত্র।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে রোগীদের সংগ্রহ করতে হয় টিকিট। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টিকিটের দাম ৩ টাকা হলেও বাস্তবে রোগীদের কাছ থেকে ৫ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রাজারহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকিটে অতিরিক্ত অর্থ আদায়
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে কাউন্টারে গিয়ে টিকিট চাইলে দায়িত্বরত বাবলী রায় ও সুজন কুমার রায় ৫ টাকা দাবি করেন। ২০ টাকার একটি নোট দিলে ১৫ টাকা ফেরত দিয়ে ‘নোমান’ নামে দেওয়া হয় ১০৭ নম্বর সিরিয়ালের একটি টিকিট। পরে ‘সোহেল’ নামে ১০৯ নম্বর সিরিয়ালের আরেকটি টিকিট কিনতেও একইভাবে ৫ টাকা নেওয়া হয়।
অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে বাবলী রায় বলেছেন, ‘টিকিট ৫ টাকা।’ তবে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি দাবি করেন, ‘আমি কখনো ৫ টাকা নিই না।’
পদবি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানিয়েছেন, তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিয়োগকৃত কর্মচারী নন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগীর সঙ্গেও কথা বলে পাওয়া গেছে একই ধরনের অভিযোগ। মেরিনা বেগমসহ কয়েকজন রোগী জানিয়েছেন, তাদের কাছ থেকেও নেওয়া হয়েছে ৫ টাকা করে।
হাসপাতালের তথ্য বলছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫০-৫০০ রোগী বহির্বিভাগে আসেন চিকিৎসা নিতে। সেই হিসাবে প্রতিটি টিকিটে অতিরিক্ত ২ টাকা আদায় করা হলে প্রতিদিন ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব। মাসিক হিসাবে এ অঙ্ক দাঁড়ায় ২৭-৩০ হাজার এবং বছরে প্রায় ৩ লাখ ২৪ হাজার থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
টিকিট সংগ্রহের পর ১০৭ নম্বর কক্ষে চিকিৎসা নিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক উপস্থিত নেই। প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষার পরও তিনি কক্ষে আসেননি। এ সময় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায় প্রায় ১০ জন রোগী কক্ষের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন।
এক্স-রে করতে আসা এক রোগীর স্বজন রনির ভাষ্য, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নাজমুল আমাকে আসতে বলেছেন পরের দিন। কারণ এক্স-রে মেশিনের ফিল্ম নেই।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম বলেছেন, ‘অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি দেখা হবে গুরুত্ব সহকারে।’
অতিরিক্ত অর্থ হাসপাতালের কোষাগারে জমা হচ্ছে কি না— এমন প্রশ্নে তার জবাব, ‘হিসাবরক্ষকের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বলা যাবে।’ এক্স-রে সেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, মেশিন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ফিল্মের সংকট। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ৮ লাখ টাকা বকেয়া। এজন্য সবসময় চালানো যাচ্ছে না মেশিন।


