মাদ্রাসাছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ, সুপারসহ গ্রেপ্তার ৩

সংগৃহীত ছবি
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় 'জমিলাতুন নেছা আদর্শ মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসার’ সুপারের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ওই ছাত্রীর মায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন মাদ্রাসার সুপার সাইদুর রহমানসহ তিনজন।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
১০ বছরের শিশুটি মাদ্রাসার কুরআন হিফজ শাখার আবাসিক ছাত্রী। ঈদের ছুটিতে রোববার সকালে মেয়েকে নিতে মাদ্রাসায় গেলে নির্যাতনের বিষয়টি টের পান বলে জানিয়েছেন তার মা।
মেয়েকে প্রথমে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ- ‘বাড়ি থেকে মাদ্রাসা দূরে হওয়ায় প্রায় নয় মাস আগে মেয়েকে আবাসিক শাখায় ভর্তি করি। গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মেয়েকে মাদ্রাসায় রেখে আসি। রোববার ছুটির দিন মেয়েকে আনতে গিয়ে দেখি তার গায়ে প্রচণ্ড জ্বর এবং পায়ে ব্যথার কারণে হাঁটতে পারছে না। কী হয়েছে জানতে চাইলে ভয়ে কিছু বলছিল না।’
‘বিষয়টি মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা পরিচালকের স্ত্রীকে জানালে তিনি হাসপাতালে না নিয়ে শুধু জ্বরের ওষুধ খাওয়াতে বলেন। এরপর অসুস্থ অবস্থায় মেয়েকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। সেখানে মেয়ে তার গোপনাঙ্গে ব্যথার কথা জানায়। মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, রিশা ম্যাডাম তাকে মারধর করেছেন এবং এ কথা কাউকে বলতে নিষেধ করেছেন। ঘটনার পর তারা ওষুধ খাইয়ে মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে রাখত।’
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. পল্লব সাহা জানালেন, ‘জ্বর এবং পায়ে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয় মেয়েটি। পরে পরিবার অভিযোগ করে যে মেয়েটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমাদের হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করার পরামর্শ দেয়া হয়।’
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মেয়েটির অক্সিজেন স্যাচুরেশন নিচে নেমে যাওয়ায় তাকে অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে। মেয়েটি চরম বিষণ্ণতায় (ডিপ্রেশন) ভুগছে। ওসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার যৌনাঙ্গের বহির্ভাগে কোনো ক্ষত না পেলেও ভেতরে আঘাতের (ইন্টারনাল ইনজুরি) চিহ্ন রয়েছে। এর কারণে শরীরে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছে। এতে যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।’
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার পরিচালকের স্ত্রী শামীমা বলেন, ‘নির্যাতন বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সঠিক নয়। মেয়েটির জ্বর আসার বিষয়টি তার মা আসার পরই জানতে পেরেছি।’

