মায়ের সমাধির পাশের খালে পড়ে প্রাণ গেল তিন বছরের অরূপের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দুই মাস আগে ডেঙ্গুতে মাকে হারিয়েছিল তিন বছরের শিশু অরূপ হালদার। বাড়ির পাশের খালের পাড়ে মায়ের সমাধি। সেই সমাধির কাছে গিয়ে খালের পানিতে পড়ে মৃত্যু হয়েছে শিশুটির। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে দিশেহারা বাবা অরবিন্দু হালদার। স্ত্রীকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটিতে নেমে এসেছে আরেক দফা শোকের ছায়া।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার দুপুরে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার দৈহারী ইউনিয়নের গণকপাড়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হালদার বাড়িতে।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অরবিন্দু হালদার পেশায় ক্ষুদ্র চা দোকানি। তিন বছরের ছেলে অরূপ আর আট বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন তার স্ত্রী রিতা হালদার। প্রথমে তাকে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নেওয়া হয়। ধারদেনা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেও স্ত্রীকে বাঁচাতে পারেননি অরবিন্দু। পরে বাড়ির পাশের খালের পাড়ে স্ত্রীর সমাধি করেন।
গতকাল দুপুরে সন্তানদের জন্য বাড়িতে রান্না করছিলেন অরবিন্দু। এ সময় পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় অরূপ। ধারণা করা হচ্ছে, মায়ের সমাধির কাছে গিয়ে সে খালের পানিতে পড়ে যায়। ছেলেকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন অরবিন্দু। একপর্যায়ে স্ত্রীর সমাধির কাছে গিয়ে অরূপের জুতা দেখতে পান।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা খালে জাল ফেলে শিশুটির খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে পানির নিচ থেকে অরূপের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রবীর মণ্ডল জানিয়েছেন, ঘটনার দিন অরবিন্দু দোকান থেকে দ্রুত বাড়িতে ফিরে সন্তানদের জন্য রান্না করছিলেন। তার অগোচরে অরূপ ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। পরে ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে স্ত্রীর সমাধির কাছে তার জুতা দেখতে পান অরবিন্দু। এরপর খোঁজাখুঁজি করে খাল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, শিশুটির মা প্রায় দুই মাস আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। শনিবার দুপুরে খালের পানিতে পড়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।




