কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৫৩

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কুমিলার ১৮ থানা এলাকায় সপ্তম দফায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩৫৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার মাগরিবের পর থেকে গভীররাত পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।
আজ সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের সব ইউনিট ও ডিবি পুলিশ একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর জানান, কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানে এবং প্রত্যেকটি থানা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ অভিযানে পুলিশের সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নেন। আটকদের অপরাধের সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক কুমিল্লা শহরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে উঠতি বয়সের একশ্রেণির কিশোররা মাদক সেবন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মোটরসাইকেল মহড়া থেকে শুরু করে খুনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান অপ্রতিমের নৃশংস খুনের ঘটনায় কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এতে নড়েচড়ে বসে পুলিশ ও প্রশাসন।
এর আগে গত ০৮ অক্টোবর পর্যন্ত ছয়টি বড় ধরনের অভিযানে আটক করা হয় ২ হাজার ৩০২ জনকে। এদের মধ্যে ৭০৯ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ১ হাজার ৫৮৫ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ছাড়াও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলা এবং কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কুমিল্লার সবচেয়ে আলোচিত ও ভয়ংকর দুটি কিশোর গ্যাং টিমের নেতৃত্বদানকারী ৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উঠতি বয়সী কিশোরা যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না পারে, সেজন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, এ বিষয়ে কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে।




