চট্টগ্রাম
বোনকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় খুন, ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড

দুই যুগ আগে চট্টগ্রামে এক যুবককে জবাই করে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে আদালত আরও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। বোনকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় ওই যুবককে প্রাণ দিতে হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ আছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় দিয়েছেন।
মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পিপি মোহাম্মদ হাসেম জানান, দুই আসামি জামাল উদ্দিন ও এরশাদ হিরুর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় আনা অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় আরও তিন আসামি মনির, আলমগীর ও রাশেদকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
২০০৩ সালের ৮ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর বাদামতলী শেখ মুজিব রোডের বাসিন্দা ইদু মিয়াকে (৩২) গলা কেটে ও এলোপতাড়ি ছুরিকাঘাত করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। সেদিন দুপুরে তার লাশ বাড়ির পাশে পুরাতন কবরস্থানে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার ভাই মোহাম্মদ কামাল নগরীর ডবলমুরিং থানায় অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ আছে, ইদু মিয়া মাছের আড়তের কর্মচারী ছিলেন। তার বোনকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল স্থানীয় যুবক জামাল উদ্দিন। তিনি নিয়মিত বাসায় আসা শুরু করলে ইদু মিয়া বাধা দেন। বোনের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জামাল উদ্দিন আরও চার সহযোগী মিলে ইদু মিয়াকে খুন করেন।
এ ঘটনায় করা মামলার অভিযোগপত্রে ৫ জনকে আসামি করা হয়। ২০০৬ সালে আদালতে অভিযোগ গঠনের পর রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাকিব মিয়া জানালেন, দণ্ডিতদের মধ্যে কারাগারে থাকা এরশাদ, আলমগীর ও রাশেদকে রায় ঘোষণার সময় আদালতে নেওয়া হয়েছিল। পরে সাজামূলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। পলাতক জামাল ও মনিরের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত।




