বিদেশি অপারেটর আনল ৪ ক্রেন, চালু হতে আরও এক মাস

চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল
চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) পণ্য ওঠানামার গতি বাড়াতে ৪টি আধুনিক ‘কী গ্যান্ট্রি ক্রেন’ যুক্ত করেছে বিদেশি অপারেটর রেড সী গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)। চীনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্যানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রি’ থেকে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে এই ক্রেনগুলো কেনা হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্রেনগুলো টার্মিনালে এসে পৌঁছেছে। জেটিতে স্থাপন শেষে আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি এগুলো দিয়ে পুরোদমে পণ্য ওঠানামা শুরু করা যাবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান দুটি টার্মিনাল— নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি)-তে মোট ১৮টি কী গ্যান্ট্রি ক্রেন সচল রয়েছে। এর মধ্যে এনসিটিতে ১৪টি এবং সিসিটিতে ৪টি ক্রেন ব্যবহৃত হচ্ছে।
মজার বিষয় হলো, এই সবগুলো ক্রেনই কেনা হয়েছিল বিশ্বের এক নম্বর ক্রেন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চীনের ‘সাংহাই জেনহুয়া হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ’ (জেডপিএমসি) থেকে। মানসম্পন্ন ও আধুনিক প্রযুক্তির কারণে বিশ্ব বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশই জেডপিএমসির দখলে। যেখানে বিশ্বসেরা পোর্ট অপারেটররা জেডপিএমসি-কে বেছে নেয়, সেখানে কেন তুলনামূলক সীমিত বাজারের স্যানি মেরিনকে বেছে নেওয়া হলো, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
এ বিষয়ে আরএসজিটি বাংলাদেশের হেড অফ কমার্শিয়াল সৈয়দ আরেফ খুরশিদ জানিয়েছেন, ‘জেডপিএমসির চেয়ে স্যানির গ্যান্ট্রি ক্রেনের পারফরম্যান্স অনেক ভালো, এর দামও বেশি। তাছাড়া একেক প্রতিষ্ঠানের পছন্দ ও কাজের ধরন একেক রকম হতে পারে।’
তবে মেরিটাইম বিশেষজ্ঞরা এই ক্রয় প্রক্রিয়ার পেছনে ভিন্ন কৌশল দেখছেন। তাদের মতে, ২২ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তির শর্তানুযায়ী অপারেটরকে প্রথম দুই বছরের মধ্যেই সমস্ত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন করতে হবে। জেডপিএমসির মতো জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্ডার দিলে সাধারণত দীর্ঘ সময় (লিড টাইম) লাগে এবং সেখানে মূল্য কমবেশি করার কোনো সুযোগ থাকে না। ফলে সময় বাঁচাতে এবং বাজেট সাশ্রয় করতে স্যানি মেরিনকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যাতে কম সময়ে ও কম খরচে ক্রেনগুলো আনা সম্ভব হয়।
জানা গেছে, পিসিটির বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখেই স্যানি মেরিন থেকে এই ক্রেনগুলো কাস্টমাইজড বা বিশেষভাবে তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। পিসিটির মোট তিনটি জেটির মধ্যে একটিতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান ওঠানামার উচ্চতার কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে ওই জেটিতে কোনো গ্যান্ট্রি ক্রেন বসানো সম্ভব নয়। বাকি দুটি জেটিতেও উচ্চতার সীমাবদ্ধতা থাকায় ক্রেন চারটির উচ্চতা নির্দিষ্ট করে ৪২ ফুট রাখা হয়েছে।
সৈয়দ আরেফ খুরশিদ স্পষ্ট করেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া সমস্ত শর্ত ও উচ্চতার নিয়ম মেনেই আমরা এই ক্রেনগুলো কিনেছি। তবে এই ক্রেনগুলো কোনো নির্দিষ্ট জেটিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজনে স্থানান্তর করা যাবে।’
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রথম দুই বছরে পিসিটিতে ১৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ পর্যন্ত ৫৯ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেড সি। বিনিয়োগ চুক্তির অংশ হিসেবে তারা ইতিমধ্যে ২৩ মিলিয়ন ডলারে রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৬ মিলিয়ন ডলারে স্ক্যানার মেশিন এবং ৩০ মিলিয়ন ডলারে এই ৪টি কী গ্যান্ট্রি ক্রেন সংগ্রহ করেছে।
নতুন এই ভারী যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে আরএসজিটি তাদের প্রথম দুই বছরের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত শর্ত পূরণ করতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ৪টি কী গ্যান্ট্রি ক্রেন পুরোদমে চালু হলে পিসিটির পণ্য ওঠানামার সক্ষমতা ও পারফরম্যান্স বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।





