কিশোরকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত লুইজিয়ানার সাবেক মেয়র

অভিযুক্ত মেয়র রবার্টস
নিজ বাড়িতে পার্টি চলাকালীন ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার একটি শহরের সাবেক নারী মেয়র। ঘটনার সময় তিনি মেয়রের পদে দায়িত্বরত ছিলেন।
অভিযুক্ত মিস্টি রবার্টসকে (৪৩) গত মঙ্গলবার স্থানীয় একটি জুরি বোর্ড দুটি গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে। একটি অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, অপরটি নাবালকের সঙ্গে অশালীন আচরণ। এর ফলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
সাত দিনের দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে জুরিরা এক ঘণ্টারও কম সময় আলোচনা করে এই রায় দেন। রায়ে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অভিযুক্ত মেয়রের বাড়িতে একটি পুল পার্টি চলাকালীন তিনি এবং ওই কিশোর উভয়েই প্রচুর মদ পান করেছিলেন। সেই অবস্থায় তিনি ওই কিশোরকে যৌন নিপীড়ন করেন। উল্লেখ্য, সে সময় তিনি স্থানীয় শহর ডিরিডারের মেয়র হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বরত ছিলেন।
বিচারের শেষ দিনে ভুক্তভোগী কিশোর আদালতে সাক্ষ্য দেয়— প্রচুর মদ্যপানের ফলে সে বমি করে দিলেও রবার্টস পুলের পাশে তার সঙ্গে ‘ফ্লার্ট’ করেন এবং তাকে চুম্বন করতে শুরু করেন। কিশোরটি জানায়, রবার্টস তাকে ওপরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন।
মার্কিন আইন অনুয়ায়ী ওই কিশোরের বয়স সম্মতি দেওয়ার মতো ছিল না।
রবার্টসের দুই সন্তান এবং ভাগ্নের সাক্ষ্য অনুযায়ী তারা সবাই রবার্টস এবং ভুক্তভোগীকে একসঙ্গে দেখেছিল। তবে তারা ধর্ষণের ঘটনাটি সরাসরি দেখেনি।
ডেলিভারি সার্ভিসের একজন চালক আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তিনি ঘটনার পর রবার্টসের বাড়িতে জরুরি গর্ভনিরোধক পিল ‘প্ল্যান বি’ পৌঁছে দিয়েছিলেন। বিচারে প্রমাণিত হয়েছে, রবার্টস তার সন্তান এবং ভাগ্নেকে যা দেখেছে সে বিষয়ে মিথ্যা বলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একজনকে টেক্সটে লিখেছিলেন, ‘মরার আগ পর্যন্ত মিথ্যা বলবে’।
রবার্টসের প্রাক্তন স্বামী ডানকান ক্ল্যান্টনের সাক্ষ্য অনুযায়ী, রবার্টস সরাসরি তার কাছে অপরাধের কথা স্বীকার করেছিলেন। তার সন্তানরা তাকে ধরে ফেলেছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
২০১৮ সালে মিস্টি রবার্টস ডিরিডারের প্রথম নারী মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। ২০২২ সালে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে চার বছরের জন্য আবার জয়ী হন।

