জন্মদিনে জেলেনস্কি-পুতিনের সঙ্গে ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ফোনালাপ ট্রাম্পের

ভলোদিমির জেলেনস্কি, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যুদ্ধ, শান্তি ও কূটনীতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এমনটাই জানিয়েছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়। ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনে হওয়া এই আলাপকে তারা ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছে।
এই ফোনালাপ এমন সময়ে হলো, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা আলোচনা ইরান যুদ্ধের কারণে আড়ালে চলে গেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রযাত্রাও গতি হারানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জেলেনস্কির উপদেষ্টা দিমিত্রো লিতভিন সাংবাদিকদের বললেন, ‘এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনা। জন্মদিনের শুভেচ্ছা থেকে শুরু করে কূটনীতি, যুদ্ধ ও শান্তি সব বিষয় নিয়েই কথা হয়েছে।’ তিনি জানান, ফোনালাপটি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট স্থায়ী হয়।
এদিকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও রবিবার ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনে ফোন করেন। তারা ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধ এবং রাশিয়ায় ওয়াশিংটনের দূতদের আসন্ন সফর নিয়ে আলোচনা করেন।
ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের বললেন, ‘আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তুত হওয়া সমঝোতা স্মারকের পরিস্থিতি গুরুত্ব পেয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, একটি চুক্তি খুব কাছাকাছি রয়েছে।’
উশাকভ আরও বলেছেন, ‘এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, বর্তমানে ইরান-সংক্রান্ত বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শিগগিরই আবার রাশিয়া সফর করবেন।’
ক্ষমতায় আসার পর এক দিনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। এরপর থেকে তিনি দুই পক্ষের ওপরই যুদ্ধ বন্ধের জন্য চাপ দিয়ে আসছেন।
তিনি ইউক্রেনকেও বারবার রাশিয়ার কাছে কিছু বিষয়ে ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া।
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মঙ্গলবার ফ্রান্সে জি৭-এর একটি কর্মপর্বে জেলেনস্কির সঙ্গে অংশ নেবেন ট্রাম্প। তবে তাদের মধ্যে আলাদা কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সূচি নেই।
গত বছর হোয়াইট হাউসে উত্তেজনাপূর্ণ বৈঠকে জেলেনস্কিকে কড়া ভাষায় তিরস্কার এবং ২০২৫ সালের আগস্টে আলাস্কায় এক শীর্ষ সম্মেলনে পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানোর কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ট্রাম্প।


