ট্রাম্পের দাবি তার ৮টি নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিৎ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বললেন, তার ৮টি নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিৎ ছিল। গত শুক্রবার ও শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কারে নাভি পিল্লাইকে বিজয়ী করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন এবং নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির নিন্দা জানান। নোবেল পুরস্কার নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পরিচিত সমালোচনার সুরেই ফিরে আসেন। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকান মানবাধিকার আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক বিচারক নাভি পিল্লাইকে ২০২৬ সালের শান্তি পুরস্কার প্রদানের জন্য নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির তীব্র নিন্দা জানান।নিজেকে এই সম্মানে ভূষিত করার জন্য প্রকাশ্যে প্রচারণা চালানো ট্রাম্প শুক্রবার রাত ১১টা ৩৯ মিনিটে 'ট্রুথ সোশ্যাল'—এ প্রায় ৬০০ শব্দের একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি যুক্তি দেখান , তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন এবং তার "কেবল একটি নয়, বরং ৮টি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল।" বিশ্ব সম্প্রদায় তার এই দাবিকে হাসির খোরাক হিসেবেই বিবেচনা করছে।
তিনি এই সিদ্ধান্তকে "নরওয়ের গায়ে এক অমোচনীয় কলঙ্ক" বলে অভিহিত করেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন, যেখানে মিস পিল্লাইকে "আমেরিকা ও ইসরায়েলের প্রতি নির্লজ্জ বিদ্বেষপরায়ণ ব্যক্তি" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
শনিবার সকাল নাগাদ ট্রাম্প তার ক্ষোভের বিষয়গুলোকে একটি অনুচ্ছেদে সংক্ষেপে তুলে ধরেন। সেখানে তিনি যেসব যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন বলে দাবি করেন তার তালিকা দেন। পাশাপাশি ইসরায়েলি জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা, ভেনেজুয়েলার সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামিয়ে দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করেন। সবশেষে তিনি লেখেন, "এত কিছুর পরেও আমি বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলাম না। কী আশ্চর্য (WOW)!"
তবে ট্রাম্প যেসব যুদ্ধের অবসানের কথা উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি—যেমন ইসরায়েল ও হামাস এবং ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। তিনিই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সংঘাতের মীমাংসা করেছিলেন। অবশ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি ট্রাম্পের সেই দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। মোদি স্পষ্ট করেন , দেশ দুটির মধ্যকার যুদ্ধবিরতি বা সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা ছিল না।
বিদেশি নীতির ক্ষেত্রে নিজের অর্জিত উত্তরাধিকার বা ভাবমূর্তিকে ট্রাম্প কীভাবে দেখেন, তার একটি নিয়মিত মাপকাঠি হয়ে উঠেছে এই পুরস্কারটি। আন্তর্জাতিক সংঘাত ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের যে দৃষ্টিভঙ্গি, তার সাথে এ বছর নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের এক স্পষ্ট বৈপরীত্য লক্ষ্য করা গেছে। শনিবার এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ করা হলে হোয়াইট হাউস নিউইয়র্ক টাইমসকে কোনো সাড়া দেয়নি।
শুক্রবার এক ঘোষণায় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানায়, আন্তর্জাতিক আইনের যে ব্যবস্থাটি বর্তমানে ক্রমশ আক্রমণের মুখে পড়েছে, তা সমুন্নত রাখার প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ মিস পিল্লাইকে সম্মানিত করা হচ্ছে।
কমিটি আরও বলে, “এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিতে চায়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের শাসনই সেই ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। যা আমরা শান্তি নিশ্চিত করতে এবং অহিংস উপায়ে সংঘাত নিরসনের জন্য গড়ে তুলেছি।”
মিস পিল্লাই নিজ দেশে এবং যুদ্ধাপরাধের তদন্তকারী আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন; পরবর্তীতে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি জাতিসংঘের একটি প্যানেলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিল যে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সরকার গণহত্যা চালিয়েছে—যদিও ইসরায়েল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইতোমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যেখানে একসময় মিস পিল্লাই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে মিস পিল্লাই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নন।
এদিকে, মিস পিল্লাই জার্মানির নুরেমবার্গ ফোরামে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর আয়োজিত একটি সম্মেলনে অংশগ্রহণকালে এই পুরস্কারের খবরটি জানতে পারেন। করতালি—মুখর এক জনসমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই পুরস্কারটি পাওয়ার জন্য ট্রাম্পের দীর্ঘ প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে হাসতে হাসতে বলেন, “আপনারা যদি আরেকটু জোরে হাততালি দেন, তবে হয়তো আমি ট্রাম্পের সঙ্গে এই পুরস্কারটি ভাগ করে নেব।”
তথ্যসূত্র: ট্রুথ সোশাল, নিউইয়র্ক টাইমস, এপি



