আমাকে পুরস্কার না দিলে নোবেলের অসম্মান হবে, দাবি ট্রাম্পের

হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স
নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পক্ষে নিজের প্রচার আরও জোরালো করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন এবং আগের যেকোনো নোবেলজয়ীর চেয়ে শান্তির জন্য বেশি কাজ করেছেন। তার দাবি, তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়া হলে তা নোবেল কমিটির জন্য ‘বড় অসম্মানের’ হবে।
স্থানীয় সময় বুধবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেছেন ট্রাম্প। শুক্রবার ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি এমন কিছু করেছি, যা আগে আর কেউ করেনি। আমি বড়াই করছি না, শুধু তথ্য বলছি। কোনো প্রেসিডেন্টই সম্ভবত কোনো যুদ্ধের সমাধান করতে পারেননি। আমি আটটি যুদ্ধের সমাধান করেছি।’
কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা করেছেন বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়া হলে তা নোবেল কমিটির জন্য ‘বড় অসম্মানের’ হবে।
তবে পুরস্কারটি তিনি পাবেন কি না, তা নিয়ে নিজেও নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, নোবেল কমিটি তার মতো মানুষকে সাধারণত পুরস্কার দেয় না।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সংঘাত থামানো বা কমানোর কৃতিত্ব দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। তার দাবি করা আটটি সংঘাত হলো— ভারত-পাকিস্তান, ইসরায়েল-হামাস, ইসরায়েল-ইরান, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড, সার্বিয়া-কসোভো, রুয়ান্ডা-ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান এবং মিসর-ইথিওপিয়া।
তবে এসব সংঘাতে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল— ট্রাম্পের এ দাবি বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লি বলেছে, ২০২৫ সালের মে মাসে সামরিক অভিযান বন্ধের সিদ্ধান্ত ভারত ও পাকিস্তান সরাসরি নিয়েছিল।
ট্রাম্পের দাবি করা অন্য কয়েকটি সংঘাতও পুরোপুরি মীমাংসা হয়নি। কোথাও আবার নতুন করে সহিংসতা হয়েছে। ফলে আটটি যুদ্ধ ‘সমাধান’ করার তার দাবি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ট্রাম্প ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর কথাও উল্লেখ করেছেন। জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউজে এক সফরের সময় মাচাদো তার নোবেল পদক ট্রাম্পকে দিয়েছিলেন।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, মাচাদো তাকে বলেছিলেন যে তিনি নিজে এ পুরস্কারের যোগ্য নন, বরং ট্রাম্পই এর যোগ্য। মাচাদোর ওই পদক দেওয়ার ঘটনাকে নিজের নোবেল পাওয়ার যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন ট্রাম্প।
এ সময় ২০০৯ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামারও সমালোচনা করেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেছেন, ওবামা ওই পুরস্কার পাওয়ার মতো কিছুই করেননি।
নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের এ প্রচারের মধ্যেই শুক্রবার এ বছরের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করবেন নরওয়ের নোবেল কমিটি।
বিশ্ব জুড়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মধ্যে শান্তিপ্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় অবদানের বিষয়গুলো বিবেচনা করছে কমিটি। তবে এ বছরের পুরস্কার কে পাবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো ইঙ্গিত দেয়নি কমিটি।
সূত্র : রয়টার্স




