ডেমোক্র্যাটদের এতই অপছন্দ? আলাদা দল করুন: কারভিল

প্রবীণ রাজনৈতিক কৌশলবিদ জেমস কারভিল। ছবি" সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ মতাদর্শিক বিরোধ প্রকাশ্যে আরও তীব্র হয়েছে। দলের প্রবীণ রাজনৈতিক কৌশলবিদ জেমস কারভিল বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীদের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে যদি এতটাই অপছন্দ হয়, তাহলে দলের নাম ব্যবহার না করে নিজেদের জন্য আলাদা পরিচয় তৈরি করা উচিত।
২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ‘আমেরিকার প্রতি অঙ্গীকার’ নিয়ে আয়োজিত এক ভিডিও সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ মন্তব্য করেন কারভিল।
তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে এতটাই ঘৃণা করেন, তাহলে আমাদের নাম ব্যবহার করবেন না। নিজেদের জন্য অন্য একটি নাম খুঁজে নিন।’
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রায় ৮০ শতাংশ সদস্য মধ্যপন্থী রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতি ঝুঁকছেন বলেও দাবি করেন কারভিল। তার মতে, দলের বড় অংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জাতীয় নিরাপত্তা, দায়িত্বশীল সরকারি ব্যয়, কার্যকর প্রশাসন, জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেমের মতো বিষয়কে গুরুত্ব দেয়। তবে দলের তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও সক্রিয় বামপন্থী অংশের বক্তব্য গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক আলোচনায় বেশি প্রভাব ফেলছে।
কারভিলের আশঙ্কা, বামপন্থী কিছু নেতার রাজনৈতিক অবস্থান পুরো ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পরিচয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে মধ্যপন্থী ভোটারদের একটি বড় অংশ দল থেকে দূরে সরে যেতে পারে।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বামপন্থীরা মনে করেন, শুধু মধ্যপন্থী রাজনীতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তারা আয়-বৈষম্য কমানো, শ্রমিকদের অধিকার শক্তিশালী করা, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারের ভূমিকা বাড়ানোর পক্ষে।
তাদের যুক্তি, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যখন বাড়ছে, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ যখন অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন পুরোনো মধ্যপন্থী নীতি দিয়ে ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন।
দলের মধ্যপন্থী শিবিরের অভিযোগ, একটি সরব বামপন্থী সংখ্যালঘু ধীরে ধীরে পুরো দলের রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রভাবিত করছে। তাদের আশঙ্কা, অপরাধ, সীমান্ত নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, সরকারি ব্যয় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মতো ভোটারদের দৈনন্দিন উদ্বেগের বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব না পেলে ডেমোক্র্যাটরা স্বাধীন ও দোদুল্যমান ভোটারদের হারাতে পারে।
অন্যদিকে বামপন্থীদের দাবি, প্রচলিত রাজনৈতিক অবস্থানই যদি এসব সমস্যার সমাধান করতে পারত, তাহলে আবাসন সংকট, শিক্ষাঋণ, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় ও আয়-বৈষম্য এত বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠত না।
এই মতাদর্শিক বিরোধের মধ্যেই মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। ‘আমেরিকার প্রতি অঙ্গীকার’ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা দলের রাজনৈতিক বার্তাকে আরও মধ্যপন্থী, বাস্তববাদী ও সাধারণ ভোটারকেন্দ্রিক করার আহ্বান জানাচ্ছেন। স্বাধীন ও দোদুল্যমান ভোটারদের কাছে দলকে আরও গ্রহণযোগ্য করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য এ মতাদর্শিক সংঘাত বড় রাজনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে। কংগ্রেসে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে দলটি কোন রাজনৈতিক বার্তা দেবে এবং কোন শ্রেণির ভোটারকে অগ্রাধিকার দেবে, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
মধ্যপন্থী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দলকে অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও প্রশাসনের মতো ইস্যুতে আরও জোর দিতে হতে পারে। আবার বামপন্থীদের উপেক্ষা করলে তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের একটি অংশ অসন্তুষ্ট হতে পারে।
জেমস কারভিলের মন্তব্য ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চলা মতাদর্শিক বিরোধকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। একদিকে দলের পুরোনো মধ্যপন্থী নেতৃত্ব, অন্যদিকে বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব। দুই পক্ষই দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিচয় ও কৌশল নিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে।
কারভিলের বক্তব্যে অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির লড়াই এখন শুধু রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে নয়, দলের ভবিষ্যৎ পরিচয় নিয়েও বড় লড়াই চলছে দলের ভেতরে। এই বিরোধের ফল ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্বাচনী ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।







