কেয়ারগিভার সংকট
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া

প্রতীকী ছবি
দ্রুত বয়স্ক হয়ে উঠছে দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যা। এর ফলে প্রবীণ নাগরিকদের পরিচর্যা খাতে তীব্র হচ্ছে কেয়ারগিভারের সংকট। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিদেশি বাসিন্দাদের এই খাতে যুক্ত করার কথা ভাবছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার।
সম্প্রতি রবিবার (১৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য কোরিয়া হেরাল্ডে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে দেশটির প্রবীণ পরিচর্যা খাতের সংকট এবং তা মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের চিত্র।
প্রতিবেদন বলছে, সরকারি হিসাবে ২০২৮ সালের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় অন্তত ১ লাখ ১৬ হাজার কেয়ারগিভারের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, ২০৪৩ সালের মধ্যে এ খাতে অতিরিক্ত ৯ লাখ ৯০ হাজার কর্মীর প্রয়োজন হবে।
এ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিদেশি বাসিন্দাদের প্রবীণ পরিচর্যা খাতে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রবীণ পরিচর্যা বিষয়ে বিশেষায়িত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থায়ীভাবে কাজের সুযোগ বা প্রয়োজনীয় ভিসা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে সরকারের এ উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন ও উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। কোরিয়ার ট্রেড ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৩ লাখ স্থানীয় নাগরিকের কেয়ারগিভার হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা বা সনদ রয়েছে। কিন্তু তাদের বড় অংশই এই পেশায় যুক্ত হচ্ছেন না। এর প্রধান কারণ হিসেবে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, কম মজুরি এবং পেশাগত উন্নতির সীমিত সুযোগকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
শ্রম ও অভিবাসনবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, স্থানীয় কোরীয়রা যে প্রতিকূল কর্মপরিবেশ ও কম বেতনের কারণে এ খাত এড়িয়ে চলছেন, একই পরিস্থিতিতে বিদেশি কর্মী ও শিক্ষার্থীরা কতদিন টিকে থাকতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেতন, কর্মপরিবেশ ও পেশাগত মর্যাদা না বাড়িয়ে শুধু বিদেশি কর্মী বা শিক্ষার্থীদের এ খাতে যুক্ত করলে দীর্ঘমেয়াদে সংকটের সমাধান হবে না। বরং বিদেশি শিক্ষার্থীরা অন্য কোনো খাতে যাওয়ার সাময়িক পথ হিসেবে এই ব্যবস্থাকে ব্যবহার করতে পারেন।







