আবারও জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক

ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও রাশিয়ার বিরোধিতা সত্ত্বেও দ্বিতীয় মেয়াদে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার নির্বাচিত হয়েছেন ভলকার তুর্ক। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভোটে বিপুল সমর্থন পেয়েছেন তিনি। এই পুনর্নিয়োগের মধ্য দিয়ে ১৯৯৩ সালে পদটি চালুর পর প্রথমবারের মতো টানা দুই পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন কোনো মানবাধিকার হাইকমিশনার।
শুক্রবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ভোটে তুর্কের পক্ষে ভোট পড়ে ১৪৪টি। বিপক্ষে ভোট দেয় ১০টি দেশ। ভোটদানে বিরত থাকে ১৩টি দেশ। এর আগে ভোট পিছিয়ে দেওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এবং তুুর্কের মেয়াদ চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত সীমিত রাখার রাশিয়ার প্রস্তাব সাধারণ পরিষদে নাকচ হয়ে যায়।
অস্ট্রিয়ার আইনজীবী ভলকার তুর্ক ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘে যোগ দেন। দীর্ঘ সময় কাজ করেন সংস্থাটির শরণার্থী বিষয়ক দপ্তরে। পরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে তিনি মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন।
দায়িত্ব পালনকালে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং আফগানিস্তান, সুদান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও নিকারাগুয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানান তুুর্ক। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ নিয়ে তার অবস্থান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, তুর্কের নেতৃত্বে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর নিরপেক্ষতা হারিয়েছে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনাকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। রাশিয়াও তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তিনি প্রকৃত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অনেক ঘটনায় নীরব থেকেছেন এবং আদর্শিক অবস্থানকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
ভোটের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি জেফ বার্টোস বললেন, তুুর্ককে পুনর্নিয়োগ করা হলে তা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অকার্যকারিতার প্রমাণ হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও অভিযোগ করে, পুনর্নিয়োগ প্রক্রিয়া তড়িঘড়ি করা হয়েছে এবং এটি জাতিসংঘের অদক্ষতার আরেকটি উদাহরণ।
ইসরায়েলও একই ধরনের আপত্তি জানিয়ে বলেছে, চলতি বছরের শেষে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পরিবর্তে তার উত্তরসূরির এই নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।
তবে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানিয়েছেন, সংস্থার নিয়ম মেনেই সদস্যরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক জোটগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে তুর্ককে পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন মহাসচিব গুতেরেস।
এদিকে তুর্ককে ঘিরে সমালোচনা শুধু পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানবাধিকারকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনি আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারতেন। আবার গাজা যুদ্ধের ক্ষেত্রে স্বাধীন জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের মতো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তোলেননি।
টুর্কের দপ্তরের দাবি, চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তারা প্রকাশ্য বক্তব্যের পাশাপাশি বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়েও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে।




