প্রশ্নের মুখে ট্রাম্পের ওয়াশিংটন অভিযান
- ৪,৫০০ সেনা রাস্তায়, তবুও কমছে না অপরাধ

ন্যাশনাল গার্ড সদ্যেদের বড় অংশকে দেখা গেছে পর্যটন এলাকা, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, মেট্রো স্টেশন ও শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় টহল দিতে।
ওয়াশিংটন ডিসির রাস্তায় হাজার হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন করে অপরাধ দমনে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েনের পরও অপরাধ দমনে তাদের কার্যকারিতা নিয়ে এখন উঠছে বড় প্রশ্ন।
ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে ওয়াশিংটনে প্রায় ৪,৫০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। সংখ্যার দিক থেকে তারা শহরের প্রায় ৩,২০০ পুলিশ কর্মকর্তার চেয়েও বেশি। তবে ফৌজদারি মামলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে মাত্র ১.৩ শতাংশ মামলায়।
অনুসন্ধানে ২১৭টি মামলায় ন্যাশনাল গার্ডের কোনো না কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৬২টি ঘটনায় তারা সন্দেহভাজনদের থামিয়েছেন এবং ৪৩টি ঘটনায় পুলিশকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করেছেন। এসব ঘটনার বড় অংশই ছিল দোকান থেকে চুরি বা মেট্রোতে ভাড়া না দেওয়ার মতো তুলনামূলক ছোট অপরাধ।
অন্যদিকে, যেসব এলাকায় গুরুতর সহিংস অপরাধ বেশি, সেখানে ন্যাশনাল গার্ডের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। তাদের বড় অংশকে দেখা গেছে পর্যটন এলাকা, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, মেট্রো স্টেশন ও শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় টহল দিতে।
এমনকি একটি ঘটনায় নাইটক্লাবের বাইরে এক নারীকে এক ব্যক্তি হামলা করার সময় কাছেই প্রায় ১৫ জন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য টহলে ছিলেন। পরে পুলিশ এসে হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাটি সেনাদের অপরাধ দমনে সরাসরি ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এই মোতায়েনের খরচও কম নয়। ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনে প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার ব্যয় হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে অভিযান চালানো হলে এর মোট ব্যয় বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ওয়াশিংটনে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা কমলেও সেটিকে সরাসরি ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের ফল হিসেবে দেখানোর মতো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। কারণ একই সময়ে সেনা মোতায়েন না থাকা অন্যান্য মার্কিন শহরেও হত্যাকাণ্ড কমেছে।
বরং চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত ওয়াশিংটনে হত্যা, ডাকাতি ও গুরুতর হামলাসহ মোট সহিংস অপরাধ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে।
ফলে ট্রাম্পের বহুল আলোচিত নিরাপত্তা অভিযানের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—৪,৫০০ সেনা রাস্তায় নামিয়েও যদি অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে এই ব্যয়বহুল অভিযান আসলে কতটা কার্যকর?






