ইরান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে, জানালেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হতে পারে।
গতকাল সোমবার কংগ্রেসের রিপাবলিকানদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই কথা বলেন। এসময় তিনি সামরিক অভিযানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এবং এই যুদ্ধ থেকে ওয়াশিংটন কী কী অর্জন করতে চায় সে বিষয়ে বিস্তারিত জানান।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক এবং নৌ সম্পদসহ ইরানের সামরিক অবকাঠামোর উপর বড় আকারে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তারা। অভিযানের প্রথম দিনেই ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।
যুদ্ধ এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। এই অবস্থায় ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ের সামরিক পদক্ষেপকে একটি ছোট অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই যুদ্ধ প্রয়োজন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘কিছু মন্দ’ লোকদের নির্মূল করার জন্য এই যুদ্ধ প্রয়োজন ছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এই পদক্ষেপ যদিও অর্থনীতিতে ‘সামান্য ধীরগতির’ সৃষ্টি করেছে। তবে দ্রুতগতিতে অর্থনীতির আবার উত্থান ঘটবে।
এই যুদ্ধ শিগগির শেষ হবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করেছে। বাকি লঞ্চারগুলো খুব দ্রুত ধ্বংস করা হবে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন, এই অভিযান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এর ফলে একটি অনেক নিরাপদ পৃথিবী তৈরি হবে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, মার্কিন সেনাবাহিনী ৪৬টি ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে।
ইরানে আক্রমণ না করলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর তেহরান ‘এক সপ্তাহের মধ্যে’ হামলা চালাতো বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে ট্রাম্প বা তার প্রশাসনের কেউ এই বিষয়ে কোনো প্রমাণ হাজির করেননি। ট্রাম্প শুধু বলেছেন, আমি শতভাগ নিশ্চিত, এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা আমাদের ওপর আক্রমণ করতে যাচ্ছিল। তারা প্রস্তুত ছিল।
তিনি আরও দাবি করেছেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো নিরপেক্ষ দেশগুলোকে লক্ষ্য করে তৈরি। দেশগুলো যদিও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেয়।
ইরানি নেতাদের হত্যাকাণ্ড উদযাপন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তারা এখন অতীত, এবং কারও ধারণা নেই যে কারা সেই দেশকে নেতৃত্ব দেবে।
যুদ্ধ থেকে আরও কিছু অর্জন করা বাকি রয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আমেরিকা চাইলেই এখন ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযানকে সফল ঘোষণা করতে পারে। তবে আমরা আরও এগিয়ে যাব।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, আমরা ইতিমধ্যেই অনেক দিক দিয়ে জয়ী হয়েছি। কিন্তু এই জয় যথেষ্ট নয়। আমরা আগের চেয়ে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে এগিয়ে যাচ্ছি চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের জন্য যা এই দীর্ঘস্থায়ী বিপদকে চিরতরে শেষ করবে। এটি অনেক আগেই করা উচিত ছিল।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নিয়োগ কোনোভাবেই মানতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই নিয়োগে তিনি হতাশ হয়েছেন। ট্রাম্প বলেছেন, আমরা মনে করি এটি দেশের জন্য একই ধরনের সমস্যা আরও বাড়াবে।
নতুন নেতাকে হত্যা করার জন্য লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেছেন, এ বিষয়ে কিছু বলা অনুচিত হবে।
ইসরায়েল যদিও বলেছে, আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে যেকোনো নতুন ইরানি নেতাকে হত্যার চেষ্টা করা হবে।
এর আগে ট্রাম্প মোজতবা খামেনিকে নিয়ে তার পরিকল্পনার বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেছেন, আমি আমার পরিকল্পনা আপনাদের বলতে যাচ্ছি না। আমি তার প্রতি সন্তুষ্ট নই।
মোজতবা খামেনিকে সোমবার ভোরে ইরান দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর তাকে অভিনন্দন জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, নিরাপত্তা সচিব আলী লারিজানি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা।
মোজতবাকে ইরাকের ইরানপন্থি রাজনৈতিক দল এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও অভিনন্দন জানিয়েছেন। এছাড়া গতকাল নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে স্বাগত জানিয়ে ইরানজুড়ে সমাবেশ হয়েছে। এতে যোগ দিয়েছেন ইসলামি বিপ্লবের পক্ষে থাকা লাখ লাখ ইরানি।

