রাশিয়ার ওপর কার্যকরের আগেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি বিক্রির সঙ্গে সম্পর্কিত আরও এক দফা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই তাতে ছাড় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মাসে তার স্বাক্ষর করা একটি আইনের আওতায় কয়েক দিনের মধ্যেই এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
স্থানীয় সময় শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে এ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
নির্বাহী আদেশে তিনি বলেছেন, ‘আমি কংগ্রেসকে জানিয়েছি, এ মুহূর্তে এ ধরনের ছাড় দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের জন্য প্রয়োজন।’
রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা গ্যাসের সবচেয়ে বড় পাঁচ আমদানিকারক দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা বিভিন্ন পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ ছিল ওই আইনে। রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রির আয় ইউক্রেন যুদ্ধ চালাতে মস্কোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থের উৎস।
গত জুলাইয়ে মারা যাওয়া সাবেক সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে করা ‘গ্রাহাম অ্যাক্ট’-এ এসব ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন গ্রাহাম।
এমন সময় ট্রাম্প এ সিদ্ধান্ত নিলেন, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপড়েন বেড়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমাতে ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল স্থাপনায় হামলা বন্ধ করার জন্য চাপ দিয়ে আসছে হোয়াইট হাউজ। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম কমাতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ইউক্রেন কিছু সময়ের জন্য রাশিয়ার তেল স্থাপনায় হামলা বন্ধ করলেও পরে আবার হামলা শুরু করেছে। অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির সুযোগ দিতে মস্কোর সঙ্গে একটি চুক্তিও করেন ট্রাম্প। ওই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন জেলেনস্কি। তিনি বলেছিলেন, এতে তিনি নিজেকে ‘প্রতারিত’ মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রেও ওই চুক্তি নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট— দুই দলের আইনপ্রণেতাদের সমালোচনার মুখে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের অভিযোগ, রাশিয়ার যুদ্ধের জন্য মার্কিন অর্থের ব্যবহার ঠেকাতে করা একটি ফেডারেল আইনের উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে যাচ্ছে প্রশাসন।
এদিকে ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও কয়েকটি বিষয়েও চাপে রয়েছে। ইউক্রেনের সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র : সিএনএন




