নেতানিয়াহু প্রশ্নে সোজাসাপ্টা উত্তর
রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে কাউকেই বিশ্বাস নেই ট্রাম্পের

বন্ধুত্ব আছে, রাজনৈতিক বোঝাপড়াও আছে। কিন্তু বিশ্বাসের প্রশ্নে কাউকেই ছাড় দিতে রাজি নন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও নন। তাকে বিশ্বাস করেন কি না, এমন প্রশ্নে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সোজাসাপ্টা উত্তর, ‘রাজনীতিতে আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না।’
নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বলে আসা ট্রাম্পের এমন মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের নির্বাচন সামনে রেখে তার এই বক্তব্য দুই নেতার রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহল বাড়িয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন কি না। জবাবে তিনি বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না। রাজনীতির জগতে আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না।’
ট্রাম্পের এই বক্তব্যে নেতানিয়াহুর প্রতি সরাসরি বিরূপ মনোভাবের প্রকাশ নেই। বরং রাজনীতিতে কাউকে পুরোপুরি বিশ্বাস না করার নিজের অবস্থানই তুলে ধরেছেন তিনি।
সম্পর্ক ভালো, তবু সমর্থনে নিশ্চয়তা নেই
নেতানিয়াহুর সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে ‘খুব ভালো’ বলে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সহযোগিতারও প্রশংসা করেছেন তিনি। ফলে দুই নেতার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য সাক্ষাৎকারে নেই।
তবে নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার প্রশ্নে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি ট্রাম্প। ইসরায়েলের কর্মকর্তারা তাকে প্রচারে যুক্ত হতে চান বলে জানান তিনি। কিন্তু নিজে অংশ নেবেন কি না, তা নিশ্চিত করেননি।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রার্থী হলে ৯৯ শতাংশ মানুষ তাকে ভোট দিতেন। এটি তার নিজের দাবি, কোনো জনমত জরিপের ফল নয়।
নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ
ইসরায়েলের রাজনীতিতে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। নেতানিয়াহুর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য সমর্থন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে নির্বাচনী প্রচারে সরাসরি অংশ নেওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
এখানেই তার বক্তব্যের তাৎপর্য। নেতানিয়াহুর সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা বললেও রাজনৈতিক আস্থার প্রশ্নে নিজের অবস্থান আলাদা রেখেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরান ইস্যুতে দুই দেশের সহযোগিতার প্রশংসা করে গেছেন।
সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন কি না, সেই প্রশ্নে ট্রাম্পের উত্তর সংক্ষিপ্ত হলেও স্পষ্ট। রাজনীতিতে কাউকেই বিশ্বাস করেন না তিনি। তবে এই বক্তব্যকে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্কের ভাঙন হিসেবে দেখারও কারণ নেই। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



