৯ মাসে নিউইয়র্ক সিটিতে মুসলিমবিদ্বেষী ৩২ হামলা

বক্তব্য রাখছেন নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে মুসলিমবিদ্বেষী অপরাধের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের প্রথম নয় মাসে এ ধরনের অপরাধের সংখ্যা ছিল ১৮টি, এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২টিতে। একই সময়ে শহরটিতে সামগ্রিক অপরাধের হার কমে এলেও ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে সংঘটিত হামলার বৃদ্ধি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
নিউইয়র্ক পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে শহরে বিদ্বেষমূলক অপরাধ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এ বৃদ্ধির হার ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। মুসলিমবিদ্বেষী অপরাধের পাশাপাশি ইহুদিবিদ্বেষী হামলা এবং যৌন অভিমুখিতাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিদ্বেষমূলক অপরাধও আলোচনায় এসেছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি মুসলিম হলেও শহরটিতে মুসলমানদের ওপর হামলা বন্ধ হয়নি।
মুসলিম নেতারা বলছেন, ফেডারেল সরকারের ইন্ধনে কংগ্রেসের মুসলিম সদস্য ইলহান ওমরের বাসা তছনছ করা এবং তার স্বামীকে হেনস্তা করার ঘটনা সাধারণ মুসলমানদের নিরাপত্তা ও স্বস্তির বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাদের মতে, মুসলিম সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ালেই নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে নিউইয়র্কে যৌন অভিমুখিতাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিদ্বেষমূলক অপরাধের সংখ্যা ৩৪ থেকে বেড়ে ৫২টিতে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, এ সময়ে নথিভুক্ত বিদ্বেষমূলক অপরাধের ৫২ দশমিক ৯ শতাংশই ছিল ইহুদিবিদ্বেষী হামলা। এ ধরনের অপরাধের সংখ্যা গত বছরের ২৪২টি থেকে বেড়ে ২৪৫টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে ইহুদিবিদ্বেষী অপরাধ কমেছে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ।
ধর্মকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিদ্বেষমূলক হামলার সংখ্যা গত বছরের ২৭টি থেকে বেড়ে ৩৭টিতে দাঁড়িয়েছে। লিঙ্গকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার সংখ্যা ৯ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০টি। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে বিদ্বেষমূলক অপরাধের কিছু ধরনে ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেছে। গত বছরের একই সময়ে নথিভুক্ত ৬৮টি ঘটনা থেকে কমে এ বছর হয়েছে ৫৯টি।
মুসলিমবিদ্বেষী অপরাধের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্বেষমূলক অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্ব সামনে এনেছে। সামগ্রিক অপরাধের হার কমলেও ধর্ম, পরিচয় ও যৌন অভিমুখিতার কারণে মানুষের ওপর হামলা বাড়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শহরে খুনের ঘটনা ৯১টি থেকে কমে ৭৩টিতে নেমেছে। একই সময়ে গাড়ি চুরির ঘটনা ১৭ দশমিক ১ শতাংশ, ডাকাতি ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনায় চুরি ১১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বড় অঙ্কের সম্পদ চুরির ঘটনা ১০ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। গুরুতর শারীরিক হামলা কমেছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। ধর্ষণের অভিযোগও ৫২৭টি থেকে কমে ৫২৬টিতে দাঁড়িয়েছে।
বছরের প্রথম নয় মাসেও বড় ধরনের অপরাধ কমার প্রবণতা অব্যাহত ছিল। ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ধরনের অপরাধের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে খুনের ঘটনা ২৫৩টি থেকে কমে ২০৩টিতে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাসের নির্দেশক।
নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, চলতি বছরের প্রথম নয় মাস এবং তৃতীয় প্রান্তিকে শহরের পাঁচটি বরোতে গুলিবর্ষণের ঘটনা, গুলিতে আহত মানুষের সংখ্যা ও খুনের ঘটনা রেকর্ডভিত্তিক সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে গুলিবর্ষণের ঘটনা কমেছে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ। বছরের প্রথম নয় মাসে এ হার কমেছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।
গণপরিবহনে অপরাধ তৃতীয় প্রান্তিকে ৩ শতাংশ এবং বছরের প্রথম নয় মাসে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। সরকারি আবাসন প্রকল্পগুলোতেও অপরাধ কমেছে। কমিশনার টিশের ভাষ্য, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, সহিংসতা সৃষ্টিকারী অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় তথ্যভিত্তিক পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধির ফলে এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানান, সেপ্টেম্বর মাসেও শহরে গুলিবর্ষণের ঘটনা এবং এতে হতাহতের সংখ্যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল। তবে সামগ্রিক অপরাধ কমলেও বিদ্বেষমূলক অপরাধের বৃদ্ধি এখনো বড় উদ্বেগের বিষয় বলে সতর্ক করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্কভাবে চলাফেরার আহ্বান জানান মেয়র।




