ককরোচদের বিক্ষোভে সামিল হওয়ার খেসারত!
আট বছর আগের ভিডিও নিয়ে ফের সমন ধ্রুব রাঠীকে

ধ্রুব রাঠী। ছবি: সংগৃহীত
বিজেপির আইটি সেলকে নিয়ে তৈরি আট বছর আগের একটি ইউটিউব ভিডিও ঘিরে ফের আইনি জটিলতায় পড়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। ২০১৮ সালে দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মানহানির মামলায় গত ১২ অক্টোবর দিল্লির সাকেত আদালত তাকে নতুন করে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ১৭ অক্টোবর। বিরোধীদের একাংশের দাবি, ‘ককরোচদের’ আন্দোলনে শামিল হওয়ার কারণেই ধ্রুব রাঠীর বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুলাই মাসেই ধ্রুব রাঠীর বিরুদ্ধে প্রথম সমন জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এত বছরেও তার কাছে সমন পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। ধ্রুব বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন, এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগকারী পক্ষ দ্রুত সমন পৌঁছে দেওয়ার আবেদন জানায়। আগে মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ২০ নভেম্বর নির্ধারিত ছিল।
মামলাটি করেছেন বিকাশ সাংকৃত্যায়ন, যিনি বিকাশ পাণ্ডে নামেও পরিচিত। তিনি ‘আই সাপোর্ট নরেন্দ্র মোদি’ নামে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং বিজেপির আইটি সেলের সদস্য বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ধ্রুব রাঠীর ‘বিজেপি আইটি সেল পার্ট-২’ শীর্ষক ভিডিওকে কেন্দ্র করে মামলাটি দায়ের করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, ওই ভিডিওতে তাকে নিয়ে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।
২০১৮ সালের মে মাসে ধ্রুব রাঠী তার ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওটি প্রকাশ করেন। বিজেপির আইটি সেলের কার্যক্রম এবং ভুয়া খবর ছড়ানোর অভিযোগ ছিল ভিডিওটির মূল বিষয়বস্তু। এতে বিকাশ পাণ্ডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। অভিযোগ, ভিডিওতে দাবি করা হয়, বিজেপির আইটি সেলের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর ছড়ানোর অভিযোগ প্রত্যাহার করানোর জন্য মহাবীর প্রসাদ নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বিকাশ পাণ্ডে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর তৎকালীন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও তার টুইটার অ্যাকাউন্টে সেটি শেয়ার করেন। অভিযোগকারীর দাবি, ভিডিওটির সত্যতা যাচাই না করেই কেজরিওয়াল সেটি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় ধ্রুব রাঠী ও কেজরিওয়াল দুজনের বিরুদ্ধেই মানহানির আইনি পদক্ষেপ নেন বিকাশ পাণ্ডে। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধেও সমন জারি করেছিলেন দিল্লির আদালত। অভিযোগকারীর বক্তব্য, ভিডিওটি বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ায় তাঁর ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অভিযোগকারী পক্ষের আইনজীবী সমক্ষ শর্মা আদালতকে জানান, ধ্রুব রাঠী সাধারণত বিদেশে থাকেন। তবে তিনি বর্তমানে ভারতে এসেছেন এবং হরিয়ানার গুরুগ্রামে অবস্থান করছেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মামলার শুনানি এগিয়ে আনার আবেদন জানায় অভিযোগকারী পক্ষ। ধ্রুব ভারতে থাকায় তাঁর কাছে দ্রুত সমন পৌঁছে দেওয়ার জন্য আদালতের নতুন নির্দেশ চাওয়া হয়।
গত ১২ অক্টোবর সাকেত আদালতের বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট রাহুল জৈন আবেদনটি বিবেচনা করেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই প্রথম সমন জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে অভিযোগকারী ধ্রুব রাঠীর কাছে সমন পৌঁছে দেওয়ার জন্য ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করে আসছেন। অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য ও আদালতের নথি বিবেচনা করে গুরুগ্রামের উল্লিখিত ঠিকানায় নতুন করে সমন জারির নির্দেশ দেন বিচারক।
সমন পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মীর সঙ্গে অভিযোগকারীকে যাওয়ার অনুমতিও দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি, দুই দিনের মধ্যে প্রক্রিয়াগত ফি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষ আদালতের কাছে ‘দস্তি সমন’ জারির আবেদনও জানিয়েছে। এর অর্থ, আদালতের নির্ধারিত সাধারণ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সমন সরাসরি হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।





