ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে যাচ্ছে রাশিয়া

সংগৃহীত ছবি
ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে রাশিয়া। ইউরোপের পরিবর্তে বিকল্প বাজারে জোর দেওয়ার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
বুধবার (৪ মার্চ) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে পুতিন বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ রাশিয়ার পাইপলাইনের গ্যাস ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া তার গ্যাস সরবরাহ ইউরোপের বাইরে অন্য বাজারে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি মূল্যায়ন করবে।
পুতিন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘এখন নতুন নতুন বাজার উন্মুক্ত হচ্ছে। হয়তো ইউরোপীয় বাজারে সরবরাহ এখনই বন্ধ করে দেওয়া আমাদের জন্য ভালো হবে। যে বাজারগুলো খুলছে সেখানে গিয়ে অবস্থান শক্ত করা যেতে পারে।’
Russian President Vladimir Putin said his country will consider ending most sales of natural gas to Europe in favor of more promising alternative markets (translation via AP) https://t.co/PkzIMLUbOJ pic.twitter.com/uFblHUklz4
— Bloomberg (@business) March 4, 2026
তিনি আরও জানান, ইউরোপের পরিবর্তে বিকল্প বাজারে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হলে তা অন্য কিছু জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশের পথ অনুসরণ করার মতোই হবে। পুতিনের কথায়, ইতোমধ্যে এমন কিছু ক্রেতা এসেছে যারা একই প্রাকৃতিক গ্যাস বেশি দামে কিনতে প্রস্তুত। ফলে ইউরোপের পরিবর্তে সেই বাজারেই সরবরাহ দেওয়া সম্ভব।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ার প্রেক্ষাপটে চলতি সপ্তাহে ইউরোপে গ্যাসের দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল সুরক্ষার পরিকল্পনা করছে জানালে দাম কিছুটা কমে আসে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর ইউরোপে রুশ গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে রাশিয়া এখনো সার্বিয়া, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার মতো কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে পাইপলাইন গ্যাস সরবরাহ করছে। এছাড়া নোভাটেক পরিচালিত ইয়ামাল এলএনজি প্রকল্প থেকেও কিছু গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট গ্যাস আমদানির প্রায় ১৩ শতাংশ ছিল রাশিয়ার গ্যাস, যার বার্ষিক মূল্য ১৫ বিলিয়ন ইউরোর বেশি। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে ইউরোপে জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।
সূত্র : ব্লুমবার্গ

