অক্সফোর্ডের জ্ঞানসিন্দুক
লাইব্রেরি নয়, যেন ‘টাইম ক্যাপসুল’

সংগৃহীত ছবি
লাইব্রেরির তাকে তাকে নয়; বরং তালাবদ্ধ সিন্দুকে দেখা মেলে বইয়ের। মাত্র তিনজনের হাতে সেই সিন্দুকের চাবি। মধ্যযুগে অক্সফোর্ডের মেরটন কলেজের লাইব্রেরিতে ছিল এমনই এক বিশেষ সিন্দুক। তখনো ছাপাখানার দেখা মেলেনি পৃথিবীতে। হাতে লেখা হতো সব। ফলে সোনা-রুপার চেয়েও দামি ছিল এক-একটি বই। শুধু অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় নয়, রানি ভিক্টোরিয়ার যুগে ইংল্যান্ডের প্রথম পাঠাগার ছিল এই মেরটন কলেজ লাইব্রেরি।
চলতি বছর ৭৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পার করল ব্রিটেনের সবচেয়ে প্রাচীন এই লাইব্রেরি। অনেকের মতে, এটি শুধু লাইব্রেরি নয়, ‘টাইম ক্যাপসুল’। পরতে পরতে লুকিয়ে আছে পৃথিবীর শতবর্ষের ইতিহাস। ১২৭৬ সালে দ্য আর্চবিশপ অব ক্যান্টারবারির আদেশে মেরটন কলেজে লাইব্রেরির যাত্রা শুরু হয়। সে সময় বই-পোকাদের একমাত্র ঠিকানা।
১৪ দশকের গণিতবিদ থেকে সমকালীন সাহিত্যিক জে আর আর টলকিন প্রত্যেকের কলমেই বারবার উঠে এসেছে প্রাচীন জ্ঞানসিন্দুকের কথা। ২০ শতাব্দীর বিখ্যাত লেখক রুডইয়ার্ড কিপলিং এবং জন বুকানন তাদের ঐতিহাসিক উপন্যাসে গান গেয়েছেন এই লাইব্রেরির।
বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে লাইব্রেরিয়ান ড. জুলিয়া ওয়ালওয়ার্থ জানিয়েছেন, ‘সে সময় এই সিন্দুক থেকে ধার করে বই পড়তেন সবাই।’ সিন্দুক খুলে পড়ার বই বের করা ছিল অন্যরকম এক আভিভজাত্যের বিষয়। তুলনামূলক খুব দ্রুতই একটি আধুনিক লাইব্রেরির তালিকায় নাম উঠে আসে মেরটনের । কালের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে ওঠে বই সংগ্রহ।
আর্চবিশপের আদেশের কয়েক বছর পর প্রথমবারের জন্য সিন্দুকের বাইরে আনা হয়। যদিও তালা-চাবি দিয়ে সিন্দুকে রাখা বইগুলো প্রথমেই রাখা হয়নি খোলা তাকে। শিকলে বাঁধা থাকত টেবিলে। ধার দেওয়া বই থেকে যেন ভালো থাকে; সে কারেণেই এ নিয়ম।
আগের সে ভাব ধরে রাখতে বর্তমানে কিছু বই এখনো শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে সেখানে। সঙ্গে একটি সিন্দুকও আছে সংরক্ষিত। ১৩৭০ সালের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করে মেরটন লাইব্রেরি। বেড়ে উঠে বইয়ের সংখ্যা। আয়তনে বাড়াতে নির্মিত হয় নতুন ভবন। সঙ্গে যুক্ত হয় হাল আমলের তাক। তাকে বই খাড়া করে রাখার নিয়মটিও প্রথম চালু হয় তখন।
ওয়ালওয়ার্থ জানিয়েছেন, ‘ব্রিটেনে বই সংরক্ষণের এই প্রথা প্রথম নিয়ে আসে মেরটন কলেজ।’ তবে লাইব্রেরিকে ‘বিশ্বের প্রথম’ বা ‘ইউরোপের সবচেয়ে প্রাচীন’ হিসেবে গণ্য করা থেকে বিরত থেকেছেন ওয়ালওয়ার্থ। ১৮৭৮ সালে অবশ্য অক্সফোর্ড গাইড নিজেই ‘ব্রিটেনের সবচেয়ে প্রাচীন’ লাইব্রেরি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

