আফগান সীমান্তে হামলা, পাকিস্তানের পক্ষে ওয়াশিংটন

আফগান সীমান্তে পাকিস্তান সেনানাহিনীর কয়েকজন সদস্য। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিল যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন বলেছে, সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সন্ত্রাসীদের হাতে পাকিস্তানের জনগণ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করে ওয়াশিংটন।
তালেবানশাসিত দেশটির সীমান্তে ইসলামাবাদের হামলা এবং কাবুলের পাল্টা হামলার মধ্যেই এ মন্তব্য আসল। সম্প্রতি করাচিতে তিন আধাসামরিক সেনা নিহতের ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সীমান্ত হামলা শুরু হয়েছে।
তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর একটি উপদল জামাত-উল-আহরার করাচি হামলার দায় স্বীকার করেছে।
এর জেরে আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ২৮ জন বেসামরিক লোক নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করে কাবুল।
আফগান তালেবানরা পরে পাকিস্তানে বিমান হামলা চালানোর কথা জানায়। অন্যদিকে ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তাদের বাহিনী বেলুচিস্তান প্রদেশে চারটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং সামরিক দিক থেকে আফগানিস্তানের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। তবে ২০২১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী প্রত্যাহারের পর ক্ষমতায় ফেরা আফগান তালেবানরা গেরিলা যুদ্ধে অত্যন্ত দক্ষ। পাকিস্তান ওয়াশিংটনের একটি প্রধান নন-ন্যাটো মিত্র এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে।
এছাড়াও ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আফগান তালেবানকে এখনও একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে।
ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তান সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে যারা পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা করে। তবে আফগান তালেবানরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বারবার বলছে, চরমপন্থা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং ইসলামাবাদ নিজেদের নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপাচ্ছে।
সূত্র: আরব নিউজ




